রনি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। খুব মেধাবী, স্মার্ট, কিন্তু একটু অহঙ্কারীও। সে সবসময় বলতো, ‘আমি বড়ো হয়ে অফিসার হব! ঝাড়ুদার, দারোয়ান–এসব তো ছোট লোকের কাজ!’
স্কুলে যেতেই সে দারোয়ান কাকুকে এড়িয়ে চলতো, ঝাড়ুদার মামাকে দেখলেই নাক সিঁটকাতো। বন্ধুদের সাথেও সে বলতো, ‘যারা বড়ো কিছু হতে পারে না, তারাই এসব কাজ করে!’
একদিন স্কুলে ঘোষণা এলো ‘একদিনের পেশা’ নামের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে পেশা বেছে নিতে হবে এবং সেটির দায়িত্ব পালন করতে হবে। উদ্দেশ্য সব কাজের মর্যাদা বোঝানো।
রনি স্বপ্ন দেখছিল ডাক্তার, পাইলট কিংবা বিজ্ঞানী হওয়ার ভূমিকায় সে সবার চেয়ে আলাদা থাকবে।
কিন্তু পেশা নির্ধারণের সময় তার হাতে এলো ‘স্কুল পরিচ্ছন্নতা কর্মী’ হিসেবে একদিন কাজ করার দায়িত্ব।
রনি হতবাক!
সে বলল, ‘স্যার, আমি এই কাজ করবো না! এটা তো ছোট লোকদের জন্য।’
শিক্ষক মৃদু হেসে বললেন, ‘ছোট বড় কাজ বলে কিছু নেই, রনি। আজ না বুঝলে, কখনোই বুঝবে না।’
রনি বাড়িতে এসে তার মা’কে আগামীকালের নিজের পেশার দায়িত্ব সম্পর্কে বলে মন খারাপ করে বসে রইলো।
মা বললেন, ‘বাবা, সম্মান যেকোনো কাজেই লুকিয়ে থাকে। একদিনের অভিজ্ঞতায় তোমার মনের কালি দূর হয়ে যেতে পারে।’
বাধ্য হয়ে পরদিন ভোরে স্কুলে গিয়ে রনি নিজ হাতে মাঠ পরিষ্কার করলো, বেঞ্চ মুছলো, ধুলো ঝাড়লো। তার অনেক ঘাম ঝরলো, হাত ব্যথা হলো। এবার রনি বুঝতে পারলো, ঝাড়ুদার মামা কতো পরিশ্রম করে, সবার আগে এসে পুরো স্কুল ঝাড়ু দেন, বেঞ্চ মুছেন, বাগানে পানি দেন। কেউ কখনও ধন্যবাদও দেয় না!
কিন্তু এখন মনে হলো–এই কাজটাও কতো গর্বের!
বিরতির সময় তার বন্ধুরা এসে বলল,
‘রনি, দারুণ করছিস তো!’
সে হেসে বলল, ‘আগে ভাবতাম এসব কাজ ছোট। এখন বুঝি, এই কাজগুলো ছাড়া আমাদের স্কুলটাই চলতো না।’
দিন শেষে ক্লাসে দাঁড়িয়ে সে বলল,
‘আজ বুঝলাম, কেউ যদি একটা জায়গাকে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখে, সেই মানুষটা সত্যিকারের বড়ো। ডাক্তার, পাইলট, অফিসার–সবাইকেই কেউ না কেউ সাহায্য করে। সেই সাহায্যকারীদের সম্মান না করলে, নিজের বড়ত্বও আসে না।’
শিক্ষক হেসে বললেন, ‘তুমি আজ একদিনে যা শিখেছো, তা অনেকেই জীবনভর শেখে না!’
সেদিন থেকে রনির দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেল। সে আর কাউকে ছোট ভাবেনি। বরং যারা পরিশ্রম করতো, সবার আগে তাদের সালাম দিতো।









