কক্সবাজারে হচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের পথে

কক্সবাজার প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

দেড় যুগের বেশি সময় ধরে কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি করে আসছিল জেলাবাসী। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচিও হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত নির্বাচনের পর কঙবাজার সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কক্সবাজারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নির্দেশ দিলেন তিনি।

গতকাল সোমবার ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউবিইএসটি) নামে কঙবাজারে বিশেষায়িত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, কক্সবাজারের সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রস্তাবের আলোকে প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগ নিয়েছেন। এক আধা পরিপত্রে জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের একটি আধাসরকারি পত্র প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানোর পর তিনি এই নির্দেশ প্রদান দেন বলে জানা গেছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। পেজে আধাসরকারি পত্রটিও তিনি শেয়ার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া সেই পত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল সম্ভাবনাময় সামুদ্রিক সম্পদকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর জন্য বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন, যার এখনও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কঙবাজারে ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে।

আধাসরকারি পত্রে আরও লেখা হয়, একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় শূন্য থেকে প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘ সময়, বিপুল অর্থ এবং পৃথক অবকাঠামো প্রয়োজন। এ বাস্তবতা বিবেচনায়, কঙবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান অবকাঠামো, ল্যাবরেটরি, গবেষণাসুবিধা, বৈজ্ঞানিক জনবল, প্রশিক্ষণ পরিবেশ এবং উপকূলভিত্তিক গবেষণা কাঠামোকে ব্যবহার করে ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির প্রাথমিক একাডেমিক ও ব্যবহারিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে একটি জাতীয় সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কঙবাজারে প্রতিষ্ঠিত।

আবেদনপত্রে আরও লেখা হয়, ফলে এর বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রারম্ভিক পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, সামুদ্রিক পরিবেশ, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক তথ্য, পর্যটন ও হসপিটালিটিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অপেক্ষা না করে একটি গবেষণামুখী, ব্যবহারিক এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত চালু করা যাবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে ব্লু ইকোনমি সংক্রান্ত বিদ্যমান জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দেশের ব্লু ইকোনমি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে হারানো অস্ত্র উদ্ধারে সঠিক তথ্য দিলে পুরস্কার দেবে র‌্যাব
পরবর্তী নিবন্ধনিলামে পুরনো খালি কন্টেনারসহ ২১০ লট বিভিন্ন ধরনের পণ্য