রাতে পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে নগরের বিভিন্ন সড়কে এলইডি বাতি স্থাপন করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। তবে ‘মনিটরিং ও ‘পরিকল্পনার অভাবে’ সড়ক আলোকায়নের উদ্যোগটি উল্টো সংকট তৈরি করছে। কারণ বিভিন্ন সড়কে এলইডি বাতি স্থাপনে পোলের ব্লক’গুলো বসানো হচ্ছে রাস্তার পাশে থাকা ছোট ছোট নালা ও সাব–ড্রেনের উপর। আবার কোথাও মূল সড়ক এসব ব্লক উঠে আসায় ড্রেনেজ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা দুটিই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ– চসিকের বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা ও মনিটরিংয়ের অভাবেই এমনটি হচ্ছে। তারা বলছেন, নালা ও ফুটপাতের উপর বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর ফলে নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রথমত নালার উপর খুূঁটি বসানোর ফলে পানির স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। যা জলাবদ্ধতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার কারণ হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সড়ক সংকুচিত হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, কোনো মোড়ে ব্লকগুলো স্থাপন করা হলে সড়ক সংকুচিত হয়ে রাতে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বিভিন্ন পরিবহন। তাই পরিকল্পিতভাবে এ খুঁটি বসানোর দাবি করেছেন নগরবাসী। একইসঙ্গে মেয়রকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সংস্থাটির কেউ এ কাজে জড়িত কী না সেটাও খতিয়ে দেখার দাবি করেছেন অনেকে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, লোকাল গভর্মেন্ট কোভিড–১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) এর আওতায় ১২ কোটি ১৪ লাখ টাকায় নগরের ১১ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কে এলইডি বাতি স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৪৭৮ পোলে সমসংখ্যক এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারের নিচে, কাজীর দেউড়ি থেকে জামালখান, জামালখান থেকে চেরাগী পাহাড়, মোমিন রোড, ডিসি হিল হয়ে বোস ব্রাদার্স পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় এসব এলইডি বাতি বসানো হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি সড়কে অন্য প্রকল্পের আওতায়ও সড়ক বাতি স্থাপন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ব্লকগুলোর গভীরতা হবে মাটির ৫ ফুট গভীরে। বেইজের পুরুত্ব ৮ মিটার। কলাম হবে ৪ ইঞ্চির। কলামের উপর পোল বসবে। এদিকে জামালখান– জামালখান থেকে চেরাগী পাহাড় সড়ক, কাজীর দেউড়ি থেকে জামালখান, মুরাদপুর, আসকার দিঘির পূর্ব পাড়সহ কয়েক জায়গায় ইতোমধ্যে সড়ক ও নালায় বিদ্যুতের পোল স্থাপনের জন্য ব্লক বসানো হয়েছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে এর সমালোচনা করেছেন।
মো. সাজজাত হোসেন নামে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিসগহ পোস্ট করে লিখেন– ‘নালার ওপর সৌরবিদ্যুতের পিলারের খাঁচা! অপরিকল্পিত কাজের মাশুল গুনবে কে? জামালখান এলাকার খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ঠিক বিপরীতে, ‘স্কুল বেলা’ দোকানের সামনে একটি দৃশ্য চোখে পড়লো। এখানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সৌরবিদ্যুতের জন্য পিলারের কাস্টিং ও রডের খাঁচা বসানো হয়েছে–একদম নালার ভেতরের ড্রেনেজ প্রবাহের পথ আটকে! উন্নয়ন কাজ অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু তা কি নালার স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে করতে হবে? নালার মধ্যে এভাবে রডের খাঁচা ও খুঁটি বসানোর ফলে ময়লা–আবর্জনা আটকে নালার মুখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই নালার পানি উপচে সোজা মূল রাস্তায় চলে আসবে এবং চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে। পিলারটি চাইলে নালার পথ না আটকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি সামনে বা পাশে একটু খালি জায়গায় স্থাপন করা যেত’।
জামালখানে শিহাব নামে এক পথচারী আজাদীকে বলেন, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এলইডি লাইটের প্রয়োজন আছে। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে নয়। আমার মনে হয়, সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এসব তদারকি করছেন না। করলে ঠিকাদারের পক্ষে এমন কাজ করা সম্ভব হতো না। অবশ্য চসিকের বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, জামালখান সড়কে ব্লক বসানো হলেও বিদ্যমান ড্রেনকে বাইপাস করে দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান আজাদীকে বলেন, কিছু জায়গায় অভিযোগ পেয়েছি। আমি নিজেও সরেজমিন ঘুরে ঘুরে দেখেছি। আসকার দিঘী পাড় ও জামালখানে দুয়েকটা চোখে পড়ছে। আজ খুলশী জাকির হোসেন রোডে মিড আইল্যান্ডে করতে চেয়েছিল। যেখানে যেখানে আমার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে সেখানে আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। কাল (আজ) প্রকৌশলীদের (বিদ্যুৎ ও সিভিল) সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে দেব। তারা সার্ভে করবে। যেখানে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হবে সেখান থেকে পোল সরিয়ে নেবে। ঈদে মিলাদুন্নবীর আগে জামেয়ার ওইদিকে বসিয়েছিল। সেখানে আমি নিজ থেকেই সরিয়ে দিয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কোভিড প্রকল্পের আছে, কিছু থোক–এর কাজ চলছে। কিন্তু কোভিড বা থোক বিষয় না, যেখানে ড্রেনের পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বা গাড়ি চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবে সেগুলো সরিয়ে নেয়া হবে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগ্রাম ইন সিটি কর্পোরেশন’ শীর্ষক এলইডি লাইট লাগানোর একটি প্রকল্পের আওতায়ও বিভিন্ন সড়ক ও নালায় এ ধরনের বৈদ্যুতিক পোল বসানো হয়। এ বিষয়ে আজাদীতে সংবাদ প্রকাশের পর কিছু কিছু জায়গা থেকে পোল সরিয়েও নেয়া হয়। এ বিষয়ে তখন একটি নির্দেশনাও জারি করেছিলেন তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী।












