এবারও বাজেটে গুরুত্ব পেল চট্টগ্রাম

চসিক ওয়াসা সিডিএর ১৩ প্রকল্পে বরাদ্দ তিন হাজার ১০৩ কোটি টাকা

মোরশেদ তালুকদার | শনিবার , ১৩ জুন, ২০২৬ at ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নগর উন্নয়নে ১৮ প্রকল্পে ৭ হাজার ৬২৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে নতুন অর্থবছরের (২০২৬২০২৭) প্রস্তাবিত বাজেটে। এর মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিন প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ হাজার ৭১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) একটি প্রকল্প থাকলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত ২০২৬২০২৭ র্অবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। এবারের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা টাকা। গতবারের ন্যায় এবারও বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম। এর মধ্যে নগরের সেবা সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), সিডিএ ও ওয়াসার ১৩ প্রকল্পের বিপরীতে ৩ হাজার ১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ তিন সংস্থার মধ্যে সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে চসিক।

প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নগর উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ জলাবদ্ধতা নিরসনের সড়কসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এছাড়া কালুরঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ৬৯৭ কোটি ৯১ লাখ বরাদ্দ রাখা হয়।

কোন সংস্থার জন্য কত বরাদ্দ : সিডিএ’র ৬ প্রকল্পের বিপরীতে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৩১৪ কোটি ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। গত অর্থবছরে (২০২৫২০২৬) সংস্থাটির একই প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৬২ লাখ ৪৭ হাজার টাকায় এসে দাঁড়ায়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ৫ প্রকল্পে ১ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত অর্থবছরে (২০২৫২০২৬) সংস্থাটির বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে ৮০২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা বেড়ে ১ হাজার ৬৭৮ কোটি ৩৫ লাখ ২৯ হাজার টাকায় উন্নীত হয়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) দুই প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ৩৮০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে (২০২৫২০২৬) সংস্থাটির চার প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ৭০০ কোটি ১ লাখ টাকা। যা সংশোধিত বাজেটে ৬৯৮ কোটি ৫২ লাখ টাকায় এসে দাঁড়ায়। মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবার দুই প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

সেবা সংস্থার বাইরে চট্টগ্রাম বন্দরের দুই প্রকল্পে ৩ হাজার ৭০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত অর্থবছরে (২০২৫২০২৫) সংস্থাটির প্রকল্প দুইটির বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৮৪৯ কোটি ৫০ লাখ। যার সংশোধিত বাজেট হচ্ছে ৯৪৬ কোটি টাকা।

এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই প্রকল্পে ১৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত অর্থবছর (২০২৫২০২৬) প্রকল্প দুটিতে বরাদ্দ ছিল ৫২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। যার সংশোধিত বাজেট হচ্ছে ৩৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

চসিকের দুই প্রকল্প : চসিকের প্রকল্পগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে (১ম সংশোধিত) ৩৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

সিডিএ’র ছয় প্রকল্প : সিডিএ’র প্রকল্পগুলোর মধ্যে সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পে (পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত চতুর্থ সংশোধিত) ২৫০ কোটি টাকা, লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে ২১ কোটি ৯৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে ২৫০ কোটি টাকা, জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পে (১ম সংশোধিত) ৭৭৭ কোটি টাকা ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা,

প্রিপারেশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২০২০৪১) (১ম সংশোধিত) প্রকল্পে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ও চট্টগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন গুচ্ছ প্রকল্পে ৮ কোটি ৬১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ৫ প্রকল্প : চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকল্পগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পে (প্রথম পর্যায়) ৭৬০ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পে (ক্যাচমেন্ট ২ ও ৪) ৬২ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর কাট্টলী ক্যাচমেন্ট স্যানিটেশন প্রকল্পে ২১৯ কোটি লাখ টাকা, চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্পে ২১৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম মহানগরীর কালুরঘাট এলাকায় পয়ঃশোধানাগার নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পে ১৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের দুই প্রকল্প : চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে (চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অংশ এবং দ্বিতীয় সংশোধিত) ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ও একই প্রকল্পে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর অংশে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

অন্যান্য :

গণপূর্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে ১২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে (২০২৫২০২৬) এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা সংশোধিত বাজেটে ১০৭ কোটি ২৮ লাখ টাকায় এসে দাঁড়ায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের গৃহীত ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা বা জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পে’ ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত অর্থবছর (২০২৫২০২৬) প্রকল্পটিতে ৩১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। যা সংশোধিত বাজেটে ২৬৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় এসে দাঁড়ায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধওটা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয় : এনবিআর চেয়ারম্যান
পরবর্তী নিবন্ধমঞ্চ মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় দেব ও নোরা ফাতেহি