ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর জামায়াত জোটের এ প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান। ইসির এ যুগ্মসচিব বলেন, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলো।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানান সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির উপসচিব মনির হোসেন। তিনি বলেন, আসনটি শূন্য হওয়ার পরে সব দল/জোটের জন্য উন্মুক্ত হবে। খবর বিডিনিউজের।
বাছাইয়ে বাদ পড়ার পর মনিরা শারমিন বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করার পরও বাদ পড়েছেন। আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন। এসময় তার আইনজীবী নাজমুস সাকিব বলেন, আগামী রোববার নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করব। প্রার্থিতা ফিরে পাব আশা করি। আমরা বুঝেশুনেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।
ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটে জামায়াত জোটের ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন, বুধবার বাছাইয়ে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। বাকি একজনের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধান্ত আসে।
২০২৫ সালের মার্চে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান মনিরা শারমিন। তিনি ২০২৩ সালে নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) পদে যোগ দেন, দুই বছর পর গেল ডিসেম্বর চাকরি ছাড়েন এ এনসিপি নেত্রী।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন যদি তিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর নিয়েছেন এবং এই পদত্যাগ ও অবসরগ্রহণ যদি তিন বছর অতিবাহিত না হয়।
বিএনপি ও স্বতন্ত্র জোটের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ : ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপি জোটের ৩৬ জনকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বৈধ হয়েছেন স্বতন্ত্র জোটের একমাত্র প্রার্থীও। বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান। তিনি বলেন, বিএনপি জোটের ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হলো। স্বতন্ত্র জোটের একজনের মনোনয়নপত্রও গ্রহণ করা হয়েছে।
এসময় সহকারী রিটার্নিং অফিসার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, কোনো দল বা জোটের সমর্থন না থাকায় আলাদাভাবে জমা দেওয়া তিনজনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল করা হয়েছে। সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি অনুযাযী রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। জোটের বরাদ্দ পাওয়া আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র মঙ্গলবার জমা পড়ে। এর মধ্যে বিএনপি জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেন ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন, আর স্বতন্ত্র জোটের একজন।
স্বতন্ত্র জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন ছাত্রদলের সাবেক (শ্রাবণ–জুয়েল কমিটির) সহ সভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই। বৃহস্পতিবার বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। দল ও জোটের বাইরে জয়পুরহাটের মেহেরুন নেছা, ঝিনাইদহের মাহবুবা রহমান, শামীমা আক্তারের দাখিল করা মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল করা হয়।














