কর্ণফুলীর শিকলবাহা ক্রসিং এলাকায় বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শিকলবাহা ক্রসিং আদর্শপাড়ার তালতলের টাওয়ার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের খুরাইশ চৌধুরী বাড়ির নূর হোসেনের ছেলে সজিব হোসেন (২৬), পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের দুলা মিয়ার ছেলে মো. ইউসুফ (৫৩), আশিয়া ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া খন্দকার বাড়ির মবিনুল ইসলামের ছেলে রুবেল (২৬) এবং পটিয়া পৌরসভার গোবিন্দখীল এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে হারুন উর রশিদ (৫১)।
জানা যায়, ঈগল পরিবহনের একটি বাস উল্টো পথে দ্রুতগতিতে এসে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি থ্রি–হুইলারকে (লেগুনা) ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনাটি দুমড়ে–মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২০–২৫ জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর পটিয়ার বিভিন্ন সড়কে ঈগল পরিবহনের বাস চলাচল নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
এদিকে, এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় মামলা হওয়ার ৪ দিন পার হলেও বাস চালককে গ্রেপ্তার করা যায়নি। গতকাল কর্ণফুলী থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত বাস চালককে আসামি করে থানায় মামলা রজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত হারুন উর রশিদের স্বজন মো. আলাউদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার না করে অমানবিকভাবে তাদের রক্তাক্ত ও কাতরানো অবস্থার ভিডিও এবং ছবি ধারণ করতে ব্যস্ত ছিল কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ফলে উদ্ধার তৎপরতাও বিলম্ব হয়।
তিনি আরো জানান, নিহত হারুন কুরবানীর ঈদে সারাদিন ব্যস্ততার পর পরিবার পরিজনের জন্য মাংস নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু তার আর বাড়ি ফেরা হল না।












