টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটক নিহতের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। তারই প্রেক্ষিতে উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সড়ক লাগোয়া গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করা হয়েছে। গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই দিন বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানের প্রথম দিনে ইনানীতে ভেঙে দেওয়া হয়েছে একটি চারতলা রিসোর্ট ভবন। প্রায় ছয় কোটি ব্যয়ে নির্মিত এই রিসোর্টটি উদ্বোধনের আগেই উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া আশপাশের আরও ৮ থেকে ১০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কঙবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান। এ সময় উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু আব্দুল্লাহ, কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি ও সচিব সানজিদা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উচ্ছেদ অভিযানে এসআরবি, পুলিশ, আনসার, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের শতাধিক সদস্য সহায়তা করেন।
অভিযান প্রসঙ্গে কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি বলেন, প্রথম দিনে ইনানীতে চারতলা বিশিষ্ট একটি ভবন উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভবনটি অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছিল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভবনটিকে কেন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে মালিকপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ কারণে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
উচ্ছেদ করা ভবনটির মালিক শহিদুল হক দাবি করেন, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন তারা। ভবনটি নির্মাণে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল। শহিদুল হক বলেন, ভবনটির নিচতলায় কয়েকটি দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার জন্য কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু চালু করার আগেই ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছি। ভবন নির্মাণের পক্ষে কাগজপত্র আছে। কিন্তু কেউ তা আমলে নেয়নি। এই ভবনটি বেআইনী উচ্ছেদ করা হয়েছে দাবি করে, একটি সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার বিচার দাবি করেছেন মালিকপক্ষ। তারা দাবি করেন, ভবনটি সরিয়ে নিতেও সময় দেয়া হয়নি।
কউকের তথ্য অনুযায়ী, কঙবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি রিসোর্ট নির্মাণে কউকের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ এলাকায় তারকা মানের ২০ থেকে ২৫টি স্থাপনার নকশা অনুমোদন পেয়েছে।
কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে প্রায় ২০০টি রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এর বেশির ভাগই কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। এসব স্থাপনার অনুমোদনসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কউকের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না।












