গত সপ্তাহে ৩৯তম জন্মদিন পালন করা লিওনেল মেসির মাঠের পারফরম্যান্সে বয়সের ছাপ একটুও পড়ছে না। সবুজ গালিচায় নামলেই গোল করছেন তিনি, নাম লেখাচ্ছেন রেকর্ডের নতুন পাতায়। জর্ডানের বিপক্ষে স্রেফ ৩০ মিনিট খেলা মেসির পায়ের জাদুতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। গড়েছেন নতুন আরেকটি ইতিহাস। গতকাল রোববার ফ্রিকিক থেকে গোল করে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বিশ্বকাপে তার গোলের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯।
জর্ডানের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে মেসি ছিলেন না। ম্যাচের ৬০ মিনিটে তাকে মাঠে নামানো হয়। ৮০ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে গোল করেন তিনি। এ বারের বিশ্বকাপে ছ’টি গোল হয়ে গেল তার। বিশ্বকাপে ফ্রিকিক থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করার বিশ্বরেকর্ডও স্পর্শ করেছেন মেসি। চতুর্থ ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে ফ্রিকিক থেকে সরাসরি দু’টি গোল করলেন। মেসি ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ফ্রিকিক থেকে সরাসরি একটি গোল করেছিলেন। বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করেছেন বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসাবে। প্রতি ম্যাচেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন, সেরা ফর্মে রয়েছেন।
বদলি হিসাবে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রথম সুযোগ পান মেসি। কিন্তু ফ্রি কিক লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। একটু পরে আরেকটি ফ্রি কিক পেলেন তিনি, এবার খুঁজে নিলেন জাল। সঙ্গে এমন একটি উচ্চতায় পৌঁছালেন তিনি, যেখানে নেই আর কেউ! প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা সাত ম্যাচে গোল করলেন তিনি!
এই আসরের আগে বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোলের রেকর্ড ছিল জুস্ত ফঁতেন ও জাইরজিনিয়োর। ১৯৫৮ আসরে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড ফঁতেন। আর ১৯৭০ আসরে তাকে স্পর্শ করেন ব্রাজিলের জাইরজিনিয়ো।
বিশ্বকাপে সবশেষ গত আসরে পোল্যান্ডের বিপক্ষে গোল পাননি মেসি। সেবার শেষ ষোলোয় অস্ট্রেলিয়া, কোয়ার্টার–ফাইনালে নেদারল্যান্ডস, সেমি–ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া ও ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জালের দেখা পান তিনি। এবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে ফঁতেন ও জায়ারজিনিয়োকে স্পর্শ করেন মেসি। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে রেকর্ড একার করে নিলেন তিনি।
শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযানে থাকা লাতিন আমেরিকার দলটির শেষ বত্রিশে লড়বে নবাগত কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার ভোর চারটায় ম্যাচটি হবে মায়ামিতে, যেটা এখন মেসির ঘরের মাঠ।











