আস্ত খাসি না পেয়ে বিরূপ মন্তব্য বরের

মেয়ে বিয়ে না দিয়ে বের করে দেন বাবা

| বুধবার , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠানে আস্ত খাসি না দেওয়ায় কনেপক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করেন বর। এর জেরে মেয়েকে ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন বাবা। গত সোমবার বিকালে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনাসমালোচনা চলছে। খবর বিডিনিউজের।

জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে বর জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উপস্থিতলোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন। পরে ফুল দেওয়া ও গেইটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে আত্মীয়স্বজনদের খাওয়াদাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বর ও তার বন্ধুদের খাবার দেওয়া হয়। এ সময় আস্ত খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। তিনি আস্ত খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান। এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই বরকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত মেয়ের বাবাও বিয়ে না দিয়েই বরকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

তবে বর জোনায়েদ মিয়া মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘খাওয়াদাওয়া শেষে মেয়েপক্ষ আমার কাছে পূর্বনির্ধারিত টাকার চেয়ে ১০ গুণ অতিরিক্ত কাবিন দাবি করে। আমি, আমার পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়।’

তবে অতিরিক্ত কাবিন দাবির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন কনের বাবা শফিক মিয়া। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ছেলেটা একটা আপত্তিজনক কথা বলে। খাসি কেন করা হয়নি সেটা বলে সে তর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে তার ভাইকে বলে সে যেন বিয়ে করে। এ অবস্থায় আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, এমন ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিব না। আমরাই বরকে বের করে দেই। বরযাত্রীরা চলে যায়। তাদের সঙ্গে আনা জিনিসপত্রও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, ‘আমাকে আগে জানানো হলে আস্ত খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।’

ধরখার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ‘আস্ত খাসির মাংস না থাকা নিয়ে ঝামেলার শুরু। বিষয়টি মেনে নিতে বরকে তার স্বজনরাও অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে সে আপত্তিকর মন্তব্য করে। তার সঙ্গে আসা লোকজন এ বিষয়টির জন্য শ্বশুরের কাছে ক্ষমা চাইতে বলে। বর এতে রাজি হয়নি। এ অবস্থায় কনের বাবা তার মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। মূলত বর খুবই বেয়াদবি করেছে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধনিরাপদ পারাপারের ফুট ওভারব্রিজে বিদ্যুতের ঝুঁকি
পরবর্তী নিবন্ধজানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী চালু হবে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম