‘আরাসকা’ ঐতিহ্যের গৌরব, সমাজসেবার অঙ্গীকার

এ এইচ এম মাইনুল হক | মঙ্গলবার , ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ

‘আরাসকা’ ১৯৭৯ থেকে ২০২৬ সময়ের ধারাবাহিকতায় একটি সংগঠন, একটি ঐতিহ্য, একটি জনকল্যাণের প্রত্যয়। আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ইতিহাস, সামাজিক সমপ্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং নাগরিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ এলে যে সংগঠনটির নাম গভীর খুবই গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়, সেটি হলো আমাদের প্রিয় Area Socio-Cultural Society (ARASCA)।

১৯৭৯ সাল থেকে দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আরাসকা শুধু একটি সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার মানুষের পারস্পরিক বন্ধন, সামাজিক দায়বদ্ধতা, নাগরিক অধিকার, পরিবেশ সচেতনতা এবং সম্মিলিত কল্যাণের প্রত্যাশাকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, নাগরিক চাহিদা বেড়েছে কিন্তু একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার স্বপ্ন আজও আমাদের অভিন্ন প্রেরণা। একটি আবাসিক এলাকার প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু প্রশস্ত রাস্তা, সুন্দর প্রবেশদ্বার কিংবা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সৌন্দর্য গড়ে ওঠে মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য, নিরাপত্তা, সামাজিক সমপ্রীতি এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। আরাসকার শক্তি তার সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, এলাকাবাসীর অংশগ্রহণ এবং জনকল্যাণে কাজ করার মানসিকতার মধ্যে নিহিত। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করা, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা এবং বাস্তবসম্মত সমাধানে সহযোগিতা করা একটি দায়িত্বশীল সামাজিক সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

আমাদের প্রত্যাশা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও আরাসকার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো নাগরিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জিত হবে। ১৯৭৯ সাল থেকে আরাসকার দীর্ঘ পথচলা আমাদের জন্য গর্বের, একই সঙ্গে এটি একটি বড় দায়িত্বেরও স্মারক। অতীতের অর্জনকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

আমরা চাই, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা এমন একটি আদর্শ আবাসিক জনপদ হিসেবে গড়ে উঠুক, যেখানে শিশুরা বেড়ে উঠবে নিরাপদ পরিবেশে, প্রবীণেরা পাবেন স্বস্তি ও সম্মান, পরিবারগুলো বসবাস করবে নিশ্চিন্তে এবং প্রতিটি নাগরিক অনুভব করবেন এই এলাকার উন্নয়ন ও কল্যাণে তাঁরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু একটি সংগঠনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আরাসকার সদস্যবৃন্দ, কার্যনির্বাহী ও সংশ্লিষ্ট কমিটিসমূহ, এলাকাবাসী, পেশাজীবী, তরুণ প্রজন্ম এবং সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

ব্যক্তি বা নেতৃত্বের পরিবর্তন স্বাভাবিক; কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের আদর্শ, ঐতিহ্য ও জনকল্যাণের লক্ষ্য যেন সব সময় অটুট থাকে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে আরাসকা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হয়ে উঠুক– এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আসুন, আমরা সবাই মিলে আরাসকার ঐতিহ্যকে ধারণ করি, সংগঠনের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে সহযোগিতা করি এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখি। কারণ আরাসকা কেবল একটি নাম নয়; এটি আমাদের এলাকার সামাজিক বন্ধন, আমাদের সম্মিলিত প্রত্যাশা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার। ১৯৭৯ থেকে আজ পর্যন্ত আরাসকার পথচলা অব্যাহত থাকুক মানুষের কল্যাণে, আগ্রাবাদের উন্নয়নে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নান্দনিক আবাসিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে।

আরাসকার এই দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে যাঁরা বিভিন্ন সময়ে যুক্ত ছিলেন, যাঁরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সমাজের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং যাঁরা সংগঠনের অগ্রযাত্রায় অবদান রেখেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আরাসকা দীর্ঘজীবী হোক। আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধব্যবহারে ব্যক্তির পরিচয়
পরবর্তী নিবন্ধগোফরান উদ্দীন টিটুর ‘নির্ঝরের স্বপ্ন’