ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮ টিলা এলাকায় খরস্রোতা ধুরুং খালের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সমপ্রতি অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে খালের প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার পর ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। খরস্রোতা পানির স্রোতে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে কৃষিজমি, বসতভিটা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সবচেয়ে বড় শঙ্কা, ভাঙন আর মাত্র ৫০ ফুট সামনে এগোলেই ফটিকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ১৮ টিলা, আজাদী পাড়া ও মানিকপুর গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুরুং খালের এ অংশে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষায় ভাঙন দেখা দেয়। তবে এবার পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে খালরক্ষা বাঁধটি ধসে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। স্রোতের টানে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা খালের গর্ভে বিলীন হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এ এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। ধুরুং খালের ভাঙনে ইতোমধ্যে আমাদের প্রায় ৬০ শতক ফসলি জমি এবং তিনটি দোকান বিলীন হয়েছে। বহু মানুষ হারিয়েছেন পৈতৃক ভিটেমাটি। তিনি বলেন, ভাঙন আর মাত্র ৫০ ফুট এগোলেই ফটিকছড়ি–লক্ষ্মীছড়ি সড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। দ্রুত সরকারি উদ্যোগ না নিলে পুরো এলাকা আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গণি বাদশা বলেন, চোখের সামনে খালের তীব্র স্রোতে আমাদের সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ১৮ টিলা, আজাদী পাড়া ও মানিকপুর এলাকার ৫ হাজার মানুষের এই বিশাল জনপদ ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ এখন খালের পেটে যাওয়ার উপক্রম। আমরা সরকারের কাছে এখানে দ্রুত সিসি ব্লক বা স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় থাকা প্রবাসী আব্দুল হাই আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, প্রবাসে দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দেশে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছিলাম। কিন্তু ধুরুং খালের এই রাক্ষুসে রূপ আমাদের সব স্বপ্ন ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। সড়কটি ভেঙে গেলে আমাদের যোগাযোগ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে। স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ শফি বলেন, ফসলি জমিই ছিল আমার একমাত্র আয়ের উৎস। খেতের ফসল বিক্রি করে আমার সংসার চলত। পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে সেই চাষের জমি খালের পেটে চলে গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং তিন গ্রামের পাঁচ হাজার মানুষকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এখনই জিও ব্যাগ বা সিসি ব্লক ফেলে ভাঙন রোধ করা না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও ঘরবাড়ি ও সড়ক খালের গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে পাউবোর উপ–সহকারী প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার বলেন, আমাদের টিম ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে প্রায় ১৩০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ খালের বাঁধ এবং কৃষিজমিতে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এ ব্যাপারে চাহিদা পাঠানো হবে। বরাদ্দ আসলে কাজ করা হবে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডে ভাঙনকবলিত এলাকার রিপোর্ট ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












