১৭০ রানের লক্ষ্য। টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে এই রান তাড়া করে জেতা সহজ নয়। বিশেষ করে মিরপুরের উইকেটে, যেখানে সময় গড়ানোর সঙ্গে ব্যাটিং কঠিন হয়ে ওঠার কথা। বাংলাদেশ দলেরও বিশ্বাস ছিল, এই পুঁজি নিয়ে ম্যাচ জেতা সম্ভব। কিন্তু সেই বিশ্বাস বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি স্বাগতিকরা। ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতার পাশাপাশি বোলাররাও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও স্বীকার করলেন, আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারলে ফল অন্য রকম হতে পারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘১৭০ লিড হওয়ার পরে আমাদের বিশ্বাস ছিল, এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। উইকেটের যে অবস্থা ছিল, তাতে আমরা আশাবাদী ছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা হয়নি। অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে আমি বলব, এই উইকেটে আমরা আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।’ ‘আমার কাছে মনে হয়, লেংথটা আমরা খুব ভালোভাবে পিক করতে পারিনি। লেংথ কিছুটা এলোমেলো ছিল। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে ওদের ব্যাটিং দেখলে বোঝা যায়, আমরা মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছি। এই জায়গায় ম্যাচ হারলেও অন্তত সাত–আটটি উইকেট নিতে পারলে হয়তো বুঝতাম, আমরা রানটা অনেক কম করেছি। কিন্তু বোলিংয়ের জায়গায় কিছুটা এলোমেলো ছিলাম।’
ম্যাচে একাধিক আম্পায়ার্স কলের সিদ্ধান্তও বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে। ‘আপনি যখন ১৭০ রানের লক্ষ্য দেবেন, তখন পাঁচটি আম্পায়ার্স কলের মধ্যে তিনটি আপনার পক্ষে দরকার হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ সেটা হয়নি। এটা ক্রিকেটের অংশ। আম্পায়ারকে দোষ দেওয়ারও সুযোগ নেই। ধরে নিতে হবে, আমাদের ভাগ্যে ছিল না। তবে শুরুতে যে আউটটি আমরা পাইনি, সেটি পেলে হয়তো মোমেন্টাম অন্য রকম হতো। কিন্তু এগুলোকে আমি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাই না।’
তবে এই হারের পেছনে শুধু দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতা দেখছেন না শান্ত। বাংলাদেশের অধিনায়কের মতে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়েছে প্রথম ইনিংসেই। নিজের ব্যাটিংয়ের দায়ও এড়াননি অধিনায়ক। ‘আমার কাছে মনে হয়, এই ম্যাচে আমরা প্রথম ইনিংসেই ব্যাকফুটে পড়ে গেছি। ২১৩ রানে দিন শেষ করার পর ২৭৩ রান করেছি। ওই জায়গায় আমরা অনেকটা পিছিয়ে গেছি। আমরা জানতাম, পরের দিকে ব্যাটিং করা কঠিন হবে। এত দূর না ভেবে প্রথম ইনিংসেই আমাদের ভুল হয়েছে। আরেকটু বড় সংগ্রহ করতে পারলে লিডটা বেশি হতো, খেলাটাও ভিন্ন হতে পারত। সিনিয়র ব্যাটার হিসেবে আমার দায়িত্ব আরও বেশি নেওয়া উচিত ছিল। আমি যদি বড় রান করতে পারতাম, তাহলে দল ২৭০–এর জায়গায় ৩৭০ রানও করতে পারত।’ অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিও দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল বলে স্বীকার করেছেন অধিনায়ক। দ্বিতীয় ইনিংসে মোমিনুল হককেও হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘মুশফিক ভাই না থাকা অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। এমন একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, বিশেষ করে এই কন্ডিশনে, তাকে পেলে ভালো হতো। তার জায়গায় হৃদয় খেলেছে। প্রথম ইনিংসের প্রথম দিন ইনজুরিতে পড়ার আগ পর্যন্ত ও খুব ভালো ব্যাটিং করছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইনিংসটা বড় করতে পারেনি। আবার দ্বিতীয় ইনিংসে মোমিনুল ভাইকেও আমরা মিস করেছি। সব মিলিয়ে বলব, এই ম্যাচে আমরা খারাপ খেলেছি। পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় আনলাকিও ছিলাম।’











