২৭ মে’র ভোর ছিল আতঙ্ক আর প্রিয়জন হারানোর তিক্ত একটা দিন। জীবনে অনেক খারাপ সময় পেরিয়ে এসে মধ্য বয়সে এই ধাক্কাটা শূন্য করে দিয়েছে ভেতরটা। দুঃসহ এই খবর পরিবারের অন্য সদস্যদের বলার যে ভাষা সেটাও হারিয়ে ফেলেছিলাম। সেহ্িঝলকে হারিয়ে জীবনে দ্বিতীয় বারের মত শূন্যতার গোলকে আবারো ঘুরপাক। সামনে এগিয়ে যাবার ছায়া আর সাথে থাকা ছায়া হারিয়ে ফেলা নিঃস্ব মানুষ আমি।
২৭ মে, ২০২৫ এর বিষন্ন বিকেলে ফিরছি ঢাকা থেকে। পেছনে লাশবাহী গাড়িতে আব্বা একা। কয়েকদিন আগেই শনিবার এমনই এক বিকেলে আব্বাকে নিয়ে ঢাকা রওনা হয়েছিলাম। খুব আশায় ছিলেন অপারেশন করলে সুস্থ হয়ে উঠবেন ঠিক আগের মত। ভিসার জন্য আনুষাঙ্গিক সব কাজ শেষ করার পরেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গিয়েছিল। হতাশা ব্যাপারটা আব্বার মধ্যে কাজ করতো না। কোনদিন দেখিনি আব্বাকে কোন বিষয় নিয়ে হতাশ হতে। নব উদ্যমে এগিয়ে গেছেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে শেষদিকে বাসায় কিছুটা নীরব হয়ে গিয়েছিলেন। এই নীরবতা দেখা যেত না। অনুভব করতাম। এই লিঙ্ক সেই লিঙ্ক একে ওকে ধরেও বাবার জন্য কিছুই করতে পারিনি সন্তান হিসেবে। আহা বাবা। যে বাবা শিশুকাল থেকে আমাদের সব প্রয়োজন মিটিয়েছেন, অসুখবিসুখে সাহারা হয়েছেন সেই বাবার জন্য কিছুই করতে পারিনি।
আশায় ছিলাম আব্বাকে সুস্থ করে চট্টগ্রাম ফিরব। কিন্তু যেরকমটা ভেবেছি সেরকম হল না। ঢাকা চট্টগ্রাম রাস্তাটি আগের মতই আছে। পরিবর্তন একটাই.. বাবা আর নেই। দুঃসহ একটা পথ।
ভোরে আইসিউর সামনে ডাক্তার যখন জানালেন তখন সবকিছু ফাঁকা মনে হচ্ছিল। বোধশক্তি কাজ করছিল না। ঘোরের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম দু ভাই। আম্মাকে জানানো ছোট বোনকে ফোন দিয়ে কি বলব… ইত্যকার বিষয়গুলো ছাপিয়ে ভেতরটা হাহাকার করে উঠল। বিষম একটা মুহুর্ত ছিল সেদিন।
নিঃসঙ্গ ঢাকা শহরটা আরো নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ল। ২০২১ সালে সোমবার সেহ্িঝলকে হারিয়ে ছিলাম আর ২০২৫ এ মঙ্গলবারে আব্বা। বাবা বলে সম্বোধন করা আর বাবা ডাক শোনা দুটি মানুষই সময়ের গহীন অন্ধকারে হারিয়ে গেল।
ভোর সকালে বাবার নিথর দেহ চাদর দিয়ে মুড়িয়ে আনতে হবে। ভোর সকালে দোকান সব বন্ধ। তখন নিজের চাদরখানা দিয়ে পরম মমতায় বাবাকে নিয়ে ফিরি। সেহ্িঝলের শেষ সময়ের জামার সাথে যুক্ত হলো আব্বার শরীরের শেষ ওম যুক্ত এই চাদর। সেই ভোর সেই সকাল পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যাবার ভয়াল অনুভূতি। আমার কাছে এখন ভোর মানে বিভীষিকা। ভোর কখনো সুবার্তা নিয়ে আসেনি। ইদানীং ভোর পর্যন্ত জেগে থাকি। কারণ এই ভোরেই বাসার দুটি মানুষ অনন্তে হারিয়েছে। যাপিত জীবন থেকে বেমালুম গায়েব হলেও চিরস্থায়ী প্রলেপ একে দিয়েছে শূন্যতার। এ শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না। বাবা বলে ডাকা আর বাবা ডাক শোনার দুটি প্রাণপ্রিয় মুখচ্ছবি। আমি এ–ঘর ও–ঘরে তাদের ছায়া খুঁজে বেড়াই। তাদের স্পর্শ তাদের ছায়া শরীরের ওম হাতড়ে খুঁজি।
বাবার মৃত্যু আমাদের জীবনে এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে যা কোনোদিন পূরণ হবে না। তবু তাঁর স্মৃতি সবসময় আমার পথের আলো হয়ে আছে, থাকবে। খুব সম্ভব অনেকদিন আগে ছাত্রাবস্থায় দেশের বাইরে যাবার আগে বাবাকে শেষ জড়িয়ে ধরেছিলাম। আর সেদিন তাঁকে শেষ মাটিতে শুইয়ে দিলাম। এখনকার সময়ে পিতা পুত্রের মধ্যে বন্ধুত্বময় সম্পর্ক দেখা গেলেও আমাদের সময়টাতে ছিল না। দুজন দুজনকে প্রাণের চাইতে বেশি ভালোবাসলেও কখনো বলা হয়নি, “বাবা ভালবাসি”। শেষবার দেশের বাইরে যাবার আগে আব্বা হঠাৎ বলে উঠেন তুমি যেখানে যাচ্ছো দেশটা অনেক দূরে তাই না? আর আজ আব্বা এমন দূরত্বে চলে গেছেন যেখান থেকে কেউ ফেরে না।
তিনি ছিলেন অতুলনীয় সততা ও নীতির মানুষ। তিনি সবসময় সঠিক কাজটিই করতেন–যদিও তা কঠিন হোক বা জনপ্রিয় না হোক। তাঁর সততা এবং দৃঢ নৈতিকবোধ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্পষ্ট ছিল, কর্মজীবন থেকে শুরু করে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যন্ত। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে নীতি–নিষ্ঠা শুধু সততার ব্যাপার নয়, এটি নিজের প্রতি এবং নিজের বিশ্বাসের প্রতি একাগ্র থাকা।
মনের গভীরে, বাবা ছিলেন একনিষ্ঠ পরিবারপ্রেমী মানুষ। মায়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল এক অনন্য অংশীদারত্ব ও প্রতিশ্রুতির সুন্দর উদাহরণ। বাবা হিসেবে তিনি ছিলেন ধৈর্যশীল, দয়ালু, এবং আমাদের প্রয়োজনের সময় সবসময় পাশে থাকা একজন মানুষ।
আব্বার দীপ্তিময় ব্যক্তিত্বের কাছে আমরা সবাই কম বেশী ম্রিয়মাণ ছিলাম। ৭০ থেকে ৮০ ও ৯০র দশক পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম পটিয়ার নাট্যমঞ্চ গুলোতে অভিনয় করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোতে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তিনি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদ এর সহ–সভাপতি, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কার্যকরী কমিটির প্রাক্তন সহ–সভাপতি দাতা সদস্য, ক্রীড়াপ্রেমী ও সমাজসেবক। পটিয়ার অনেক সংগঠন, যেমন– পটিয়া ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব, ঝংকার কালচারাল ক্লাব, আবদুস সোবহান ফুটবল দল, মহকুমা ক্রীড়া সংস্থা, পটিয়া ব্যায়ামাগার যুবগোষ্ঠী, আবাহনী ক্রীড়াচক্র পটিয়া, গোবিন্দারখীল মহল্লা, গোবিন্দারখীল মসজিদ কমিটি, দঃ গোবিন্দারখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পটিয়া জেলা বাস্তবায়ন কমিটি, উপজেলা রাইফেল ক্লাব(একমাত্র), পটিয়া নাট্য গোষ্ঠী, এরকম অগনন সংগঠনের সাথে আমৃত্যু নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন।
আব্বার কোন কিছুই ধরে রাখতে পারিনি আমরা। সমাজের সেবা করে গেছেন অকাতরে। ভালো শ্যুটার ছিলেন, জাতীয় পর্যায়ে বেশ কবার পুরস্কার পেয়েছেন।
আমার আব্বা পটিয়ার ইতিহাসের এক বর্ণাঢ্য অংশ। ছাত্র জীবনে ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর সন্তান। কামাল বাজারের পাশে তিনতলা ভবন। বাসাটা তৎকালীন ছাত্রলীগের অঘোষিত কার্যালয় ছিলো। এখানে বসেই ১৯৭১ এর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে অধ্যাপক জাফর চাচা, শামসুদ্দীন আহমদ সাহেব, আব্বা এ কে এম শামসুল আলম, প্রয়াত মেজর খালেদ, প্রফেসর আলিম, তসলিম মাহবুব, খাদ্য বিভাগের স্টাফ আমানুল্লাহ, বদি মাস্টার, এম এ জাফর (শোভনদন্ডী) মিলে স্বাধীন বাঙলার পতাকা তৈরি করে জনগণের মাঝে বিতরণ করেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে কালুরঘাটের পতনের পর বেলাল মোহাম্মদ বেতারযন্ত্র ডিস্মেন্টেল করে পটিয়ায় নিয়ে আসেন। তাদের থাকার ব্যবস্থা হয় আব্বার বাসায়। কালুরঘাট যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন তৎকালীন ক্যাপ্টেন হারুন (পরে মেজর জেনারেল) । ১৬ এপ্রিল পটিয়ায় বোমা বর্ষণ হলে পটিয়া হাসপাতাল থেকে ক্যাপ্টেন হারুনকে আব্বা, বদি মাস্টার, তসলিম মাহবুব এবং আমানুল্লাহ খাটিয়ায় নিয়ে কাঁধে করে ৩/৪ মাইল দূরত্বে ধলঘাট হাসপাতালে রেখে এসেছিলেন।
স্বাধীনতার পরে আব্বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে প্রিলিমিনারীতে ভর্তি হন এবং আলাওল হলের ৩১৩ কক্ষে (পশ্চিম) আবাসিক ছাত্র হিসেবে অবস্থান করেন। কিন্তু দাদা তাকে বিয়ে করিয়ে দেন। ফলে আব্বা লেখাপড়া ছেড়ে পুরাদস্তুর ব্যবসায়ী বনে যান।
আব্বা ঘরে কম কথা বলতেন। তাঁর ব্যক্তিত্বের তীব্রতার কাছে আমরা সবাই কম বেশি ম্লান। জাঁকজমক পূর্ণ জীবন কাটিয়েছেন আব্বা। তিনি যতটা বন্ধুত্বপূর্ণ বাইরে ছিলেন ততটা ঘরে ছিলেন না। তবুও কার কি লাগবে না লাগবে সবদিকে ছিল তাঁর নজর। শেষদিকে আব্বা একরকম চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন। হয়ত অসুখ আর ঔষধের প্রভাবে। কিন্তু মনোবল হারাননি। আমাদের বুঝতে দেননি অসুখের তীব্রতা। আম্মাকে নিয়ে ডাক্তার হাসপাতাল ল্যাব… এসবের মাঝে আব্বা চলে গেলেন। আব্বার যখন ফোর্থ ষ্টেজ তখন ব্যাপারটা সামনে আসে আমাদের। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু আব্বার সাথে আমরাও খুব আশাবাদী ছিলাম, তিনি ফিরবেন।
আব্বার হাসিখুশি চেহারার মাঝে তিনি অকাতরে আমাদের জন্য করে গেছেন। ভীষণ অসুস্থতা হাঁটুর ব্যাথা তাকে কাবু করতে পারেনি। প্রতিদিন নিয়ম করে বের হতেন। মেয়ের বাসা হয়ে পটিয়া। যখন যা চেয়েছি দিয়েছেন। কখনো বিমুখ করেননি। নিত্য দেখা মানুষগুলো যখন যাপিত জীবন থেকে বেমালুম উবে যায় তখন ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে।
আব্বাকে দেশের বাইরে নেয়ার চেষ্টা করেও পারিনি। ভিসা হচ্ছিল না। ভিসা জটিলতায় পড়ে শেষ পর্যন্ত শারীরিক ব্যথা যন্ত্রণার কারণে দেশেই চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে ঈদুল আযহার আয়োজন সব অগ্রিম করে রেখেছিলেন। তার একমাত্র স্নেহের ছোট বোন আমাদের ফুপুকে বলে রেখেছিলেন চিকিৎসা শেষে পটিয়া ফিরে তার গাছের কাঁঠাল খাবেন। আমাদের একমাত্র ফুপু খুব দুঃখ করে আমাদের বলেছিলেন। প্রতিউত্তরে আমাদের দীর্ঘশ্বাসগুলো আরো দীর্ঘায়িত হয়। ভাবনা হয় শূন্য।
২৫ মে ছিল আব্বার সাথে আমার শেষ রাত। হাসপাতালের কেবিনে এক সাথে রাত যাপন। চেহারায় ছিল সুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম ফেরার অভিব্যক্তি। আমরাও খুব আশায় ছিলাম। সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে আব্বাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাব। ২৬ মে ছিল সোমবার। ২০২১ এ অক্টোবর মাসের এক সোমবারে ভোর রাতে আমার সন্তান সেহ্িঝল ইন্তেকাল করে। স্বাভাবিকভাবেই সোমবারে বেদনাক্লিষ্টের দিন। তার সাথে যুক্ত হলো আব্বার অপারেশনের চিন্তা। বারোটা নাগাদ ওটিতে ঢুকিয়ে নেয়া হলেও অপারেশন শুরুর আগে স্বজনদের সাথে দেখা করার ডাকে আমি ভেতরে যাই। আমাকে দেখতেই কষ্ট আর চিন্তা লুকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে। পাশ থেকে ডাক্তার বললেন আমরা ডেকেছি। ওটিতে নেয়া হচ্ছে আপনার বাবাকে। বাবা তার বড় সন্তানকে তার শেষ হাসিটা উপহার দিয়ে ভেতরে চলে গেলেন। এই হাসিমাখা মুখ কখনো ভোলা যাবে না।
আহা মৃত্যু আহা বেদনা। সন্তানের পর পিতা হারানোর বেদনা। কি বিষম। কায়াহীন করে গেছে সময়। হারিয়ে ফেলেছি জীবনের ভরসার ছায়াগুলো।
বিগত বছরগুলোতে ঈদ কিংবা অন্য উপলক্ষ্যে মসজিদে সময় কেটে যেত ঘন্টার পর ঘন্টা সেহ্িঝলের পাশে। এখন মসজিদে ঢুকতেই দাদা দাদুর পাশে সেহ্িঝল আর আরেকদিকে আব্বা। সাথে আম্মাও আছেন ২৮ মার্চ থেকে। আমার আম্মা নিজের অসুস্থতা নিয়ে টানা পাঁচ বছর যুদ্ধ শেষে ইন্তেকাল করেন ২৭ মার্চ। আব্বা মারা যাওয়ার ঠিক দশ মাস পর। এক সাতাশ তারিখে আব্বা আরেক সাতাশ তারিখে আম্মা। দশ মাসের মাথায় আমরা আম্মা আব্বাকে হারিয়ে ফেলেছি।
২৭ মে দুপুরে আব্বাকে নিয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছে পটিয়ার পথে রওনা দিই। মাথার উপর এম্বুলেন্সের আলো ও আওয়াজে ভেতরটা ভাঙছিল। আমরা ফিরছিলাম রাস্তার দু পাশের চিরচেনা সবুজকে পাশে রেখে। আব্বাকে নিয়ে আমাদের শেষ ফেরা বৃষ্টিস্নাত বিকেলে, আব্বা ফিরছেন নিষ্প্রাণ দেহে। মুখর মানুষটার নিষ্প্রাণ দেহ কোলাহল মুখর পটিয়ার সবুর রোডকে নিস্তব্ধ করে দেয় ক্ষণিকের জন্য। কত স্মৃতি আব্বার সাথে। কত হাজারো বার আসা যাওয়া। পথ থেকে যায়, মানুষ হারিয়ে যায় দৃশ্যপট থেকে। স্বজনের চোখে ভাসে হারিয়ে যাওয়া মানুষটির মুখচ্ছবি। শৈশব কৈশোর থেকে আমৃত্যু এই পথে আব্বার চলাচল ছিল। সেদিন কি নিস্পন্দ। এমন সরব মানুষটি কি ভীষণ চুপচাপ হয়ে গেলেন একেবারে। তবুও তাঁর কর্মের দীপ্ততা ফুটে উঠেছিল প্রথম ও দ্বিতীয় জানাজায় পটিয়া রাহাত আলী স্কুলের মাঠ, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ও বাড়ির মসজিদ চত্বরে। এই দুটো স্কুলে আব্বার পদচারণা ছিল নিত্য। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে আসলেও স্কুলের বিভিন্ন কর্মকান্ডে আব্বা নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছিলেন।
মানুষের জন্য, আত্মীয়–স্বজনের জন্য, পরিবারের জন্য সবসময় সচেতন ছিলেন। কার কী লাগবে, তিনি সবার আগেই এগিয়ে যেতেন। পটিয়ার মসজিদ মাদ্রাসা দরগাহ গুলোতে আব্বা অকাতরে দান করে গেছেন। কাউকে বিমুখ করেননি। নিজের ব্যাপারে একেবারেই সচেতন বা গুরুত্ব দিতেন না। সারাজীবন এভাবেই তিনি কাটিয়েছেন। অসুস্থ শরীরে কষ্ট হলেও ভীতি বা হতাশা তাকে পেয়ে বসেনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শির উঁচু করেই জীবন যাপন করেছেন।
আব্বাকে যে চাদরে ঢাকা থেকে নিয়ে ফিরেছিলাম, যে চাদর মুড়িয়ে তাকে শেষ গোসল করানো হয়েছিল সে চাদরে আব্বার ওম খুঁজি এখন। আব্বার ওম আমাকে নিয়ে যায় প্রতি রাতে শৈশব কৈশোরের দিনগুলোতে। বাবার হাত ধরে মসজিদে যাওয়া মেলা কিংবা দূরে কোথাও।
মৃত্যু মানে শেষ নয়। মৃত্যু মানে শুরু।হারিয়ে যাওয়া মানুষ গুলোকে নতুন করে ধারণ করা।











