আওয়ামী লীগ, হাসিনা বলতে বাংলাদেশে আর কিছু নেই : হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

| মঙ্গলবার , ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। শেখ হাসিনাকে ‘সন্ত্রাসী’ বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, ভারতের মাটিতে বসে তিনি যাতে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতকে বলেছি। তাকে নিয়ে তেমন এর বেশি আলোচনা হয়নি। কারণ বোধহয় সবাই এখন মানেতার গুরুত্ব আর নাই। আওয়ামী লীগ, হাসিনা বলতে আর বাংলাদেশে আর কিছু নাই। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রুটিন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সে তো একটা স্বৈরাচারমানে একটা সন্ত্রাসী এবং এখন একটা আন্তর্জাতিক টেরোরিস্ট হিসেবে পড়ে আছে ভারতের স্পেসে। সো স্বাভাবিকভাবে এই টেরোরিস্ট ওখান থেকে দেড় হাজার মানুষ হত্যা করে পালিয়ে গেছে ভারতে। এটা আমরা বলছি।

শি ইজ এ টেরোরিস্ট। এবং তার জায়গা বাংলাদেশে আর নাই। শি ইজ ইররেলেভেন্ট টু বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সভাপতিকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, ফেরত আনার ব্যাপারে তো আমরা বলছি, তুলছি। তো জুডিসিয়াল প্রসেসে আমরা এটাকে খুঁজছি, আমরা চাব। সো ইয়েস, ইট হ্যাজ বিন ডিসকাসড।

সমপ্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফর করে। ওই সফরের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের যদি মাইন্ডসেট থাকে, সম্পর্ক পজিটিভ দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, তাহলে আমরা কিছুটা ভালো অগ্রগতি করতে পারবো। তো ওইদিক থেকে ইট ওয়াজ এ ফ্রুটফুল মিটিং। ওখানে আমরা ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার অজিত দোভাল সাহেবের সাথে মিটিং হয়েছে। মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সাহেবের সাথে কথাবার্তা হয়েছে। বোথ মিটিংস ওয়েন্ট পজিটিভ। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে সরকারপ্রধানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা বলছি যাতে বন্ধুত্ব সম্পর্ক মানে করতে হইলে বা একটা দিকে অগ্রসর হইতে হইলে পজিটিভ দিকে, এটা পজিটিভ ভিজিবিলিটি দুই পক্ষ থেকেই আমাদের দেখাইতে হবে। তো স্বাভাবিক, পজিটিভ ভিজিবিলিটি দেখাইতে হইলে তো এই জিনিসগুলোও অ্যাড্রেস করতে হবে। তো আমরা মানে আই উড সে ইটস এ গুড স্টার্ট। এখানে তো আর এই একদিনে তো আর সবকিছু আলোচনা করা যাবে না। বাট মোটামুটি আমরা আই উড সে, যে দুই দেশের মাইন্ডসেট যদি, যেটা আমি প্রথমেই বললাম, যদি থাকে মানে একটু অগ্রসর করার জন্য পজিটিভলি, তাহলে হইতে পারব। আর কিছু চ্যালেঞ্জেস তো থাকবেই। একজন পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী যখন ওখানে আছে, শেখ হাসিনা, তো চ্যালেঞ্জেস তো থাকবেই। তো এই চ্যালেঞ্জের ভিত্তিতে কীভাবে আমরা অন্য কাজগুলা, দুই দেশের মিউচুয়াল বেনিফিট হয় বা মিউচুয়াল ইন্টারেস্টে পড়ে, আমরা এগিয়ে নিব।

ভারতীয় ভিসা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা যেটা গুরুত্ব দিছি যে, মেডিকেল ভিসাগুলা ওপেন আপ করে দিতেভেরি সুন। তো উনারা এটা পজিটিভলি রিসিভ করছেন। তো মেডিকেল ভিসা, ব্যবসায়িক ভিসা যাতে ওপেন আপ হয়, তো আশা করি এটা ইন দি কামিং উইকস একটা পজিটিভলি ওইদিক থেকে আমরা দেখতে পাব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোথায় হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে এখনো ফাইনাল কিছু হয়নি। সম্ভবত ধরেন আমরা যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর ফরেন পলিসি ফ্রেমওয়ার্কটাসার্ক ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে আপনার প্রজেক্ট করতে চাচ্ছেন বা আমরা চাচ্ছি, আমাদের সরকার প্রাধান্য দেবে এই ফ্রেমওয়ার্ককে। এই ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে রিজিওনাল কোঅপারেশন এবং রিজিওনাল লিডারশিপটা যাতে জোরদার করা যায়। সো স্বাভাবিকভাবে মানে রিজিওনের ভেতরেও হইতে পারে। মানে সম্ভবত সফর হইতে পারে। মানে এখনো ফাইনাল কিছু না।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ দুজন ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের দেশের জুডিসিয়াল প্রসেসের মাধ্যমে, ন্যাচারালি ট্রিটি অনুযায়ী উই ক্যান ইউ নো রিটার্ন দেম। এটা তো আইনি প্রক্রিয়া। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইটস পসিবল। ইট ইজ পসিবল টু রিটার্ন দেম উইথিন দি এঙিস্টিং ট্রিটি।

বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে ভারত কোনো সহায়তা করবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, জ্বালানিতে তো তাদের সহযোগিতা আমরা কিছু পাইছি, হ্যাঁ পাইপলাইনে আসছে। তো এটার জন্য ধন্যবাদ আমরা জানাইছি এবং হচ্ছে সহযোগিতা। যেখানে আরও লাগবে, ওখানেও আমরা কোঅপারেশন পাব এটা তারা আশ্বস্ত করছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইসলামী ব্যাংকে নতুন করে ‘অভ্যুত্থান’ শুরু হয়েছে : জামায়াত আমির
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬