পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তারা বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের এ চেষ্টা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। কোনোভাবেই যেন তারা এই ধরনের অরাজক, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস করতে না পারে। তিনি বলেন, আমরা একদিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব, আরেকদিকে আইনগত যে ব্যবস্থাটুকু নেওয়া দরকার, প্রয়োজন অনুযায়ী সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। জেলার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা রয়েছেন–তারা সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন।
গতকাল নগরীর সার্কিট হাউসে জেলার আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আজকে আমাদের এই সভাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কোথায় চুরি, কোথায় রাহাজানি, কোথায় ডাকাতি, কোথায় ছিনতাই, কোথায় অবৈধ অস্ত্র, কোথায় মাদক–সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমরা প্রশাসন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা রয়েছেন, সবাইকে নিয়ে আজকে বিশদ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী দিনে সুন্দরভাবে এই জেলাকে আমরা যেন সমন্বিত রাখতে পারি।
চট্টগ্রামের আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতির সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরের একটা দীর্ঘদিনের ট্রেন্ড। এ ট্রেন্ড থেকে মুক্ত হয়ে আসার জন্য এই মুহূর্তে কিছু কঠিন কঠিন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। জনস্বার্থে, জনগণের প্রয়োজনে আরো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নির্মূল, পাহাড় কাটা সংক্রান্ত, বালু উত্তোলনসহ আরো কিছু বিশেষ বিশেষ কাজ রয়েছে। অনেক সময় আমরা লক্ষ্য করেছি, এগুলোর কারণে আইনশৃক্সখলার অবনতি হয়। সেই দিকেও আমরা বিশদ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একটা সুন্দর চট্টগ্রাম নগরী, চট্টগ্রাম জেলা সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। যেহেতু এই জেলাটি ঐতিহ্যবাহী একটা ব্যবসায়িক অঞ্চল, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সিটি। আগামী দিনে চট্টগ্রামের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামকে গুরুত্ব দিয়ে যেসব উন্নয়ন কাজ সমন্বয় করা দরকার, সেই দিকেও আমরা বিশেষভাবে নজর দিব। এই প্রত্যাশাও আমরা ব্যক্ত করছি। তিনি বলেন, আমরা খুব দায়িত্বশীলতার সহিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করে দেশের আইনশৃক্সখলার উন্নয়ন এবং বিশেষ করে এই চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার আইনশৃক্সখলার উন্নয়নের স্বার্থে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইনশাআল্লাহ এই এলাকার মানুষ সেখান থেকে তার ফলাফল পাবেন।
এর আগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলার আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সভায় আরো উপস্থিতি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম–৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্ল্যাহ, চট্টগ্রাম–১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম–৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম–১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম–১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ সিভিল প্রশাসন ও আইনশৃক্সখলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।












