অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান

| রবিবার , ২৪ মে, ২০২৬ at ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। ঢাকায় শিশু রামিসার ধর্ষণহত্যার ঘটনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনচার দিন আগে এই অত্যন্ত দুঃখজনক হৃদয় বিদারক একটি ঘটনা ঘটেছেএই ছোট্ট বাচ্চাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি যে, আইনের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করে, তাকে শাস্তি পেতে হবে। আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আপনি যখন কোনো কাজ করেন, সেটি আপনার নিজের কাজ হোক, কৃষি কাজ হোক, সংসারের কাজ হোক, একটা নিয়মকানুন আছে না? যেকোনো কাজ নিয়মকানুন মেনেই নিয়ে তো করতে হয়, তাই নয় কি? খবর বিডিনিউজের।

রামিসা হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেকোনো অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে, তার বিচার করতে হলে সরকারের কতগুলা নিয়মকানুন আছে। এখন আমরা খেয়াল করেছি, আপনারাও খেয়াল করেছেন, পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, রেডিওটিভিতে দেখেছেন, গত কয়েকদিন ধরে কিছুসংখ্যক মানুষ একটা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে, এখানে আগুন ধরাচ্ছে, ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এই কাজগুলো যারা করে, আপনারা কি মনে করেন প্রথমে কি আইনের শাসনকে তারা বাধাগ্রস্ত করছে না? আইনকে আইনের মতো কি চলতে দিচ্ছে? দিচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, সেই সময় আমরা দেখেছি দেশে কয়েকটি দুঃখজনক এ রকম অন্যায় ঘটেছে। সেই অন্যায় যখন ঘটেছে আমি নিজে সেই সকল বাচ্চার মায়েদের সাথে কথা বলেছিলাম, আমাদের দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে, আইনজীবীরা গিয়ে সেই আইনি সহায়তা করেছিল। তখন আজকে যেই সকল ব্যক্তি হৈচৈ করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে; সেদিন কিন্তু তাদেরকে আমরা মাঠে দেখিনি, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি তারা অবরোধ করেছে। তাহলে কি আমরা ধরে নেব আজকে যেহেতু ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে ক্ষমতা দিয়েছে, সেজন্যই তাদের জ্বালা হচ্ছে এবং এই জ্বালার কারণেই তারা এসব ষড়যন্ত্র করছে? তাই তো আমার মনে হয়, তাই নয় কি?

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতেই এসব অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, যারা এইরকম পরিস্থিতি তৈরি করতে চেষ্টা করছে, তারা কিন্তু কৃষক নিয়ে কোনো কথা বলে না। যারা একটা ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করতে চেষ্টা করছে, তারা দেশের মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো কথা বলে না। যারা এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে, রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে অবরোধ করার চেষ্টা করছে, তারা কিন্তু কৃষকের খাল কাটার কথা বলে না, তারা কৃষকের কৃষক কার্ডের কথা বলে না। যারা এই ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তারা কিন্তু ছোট ছোট গ্রামের মাসুম বাচ্চারা কীভাবে স্কুলে খালি পায়ে যায়, সেই দিকে তাদের খেয়াল নাই; তাদেরকে নতুন পোশাক দেওয়ার কথা বলে না।

জনগণের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আজকে যারা দেশে এইরকম পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আপনার তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।

ওদের মধ্যে যোগসূত্র আছে : প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। আপনারা পত্রপত্রিকা পড়েন, আপনারা সোশ্যাল মিডিয়ায় যান, খবর নিয়ে দেখেন ওই যে ৫ আগস্ট যাদেরকে এই বাংলাদেশের মানুষ এই দেশ থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছিল, এখন যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে; খবর নিয়ে দেখেন, ওই ৫ আগস্টে যারা বিতাড়িত হয়েছিল, তাদের সাথে তলে তলে আবার খাতির শুরু করেছে। যেইভাবে ৯৬ সালে করেছিল, যেইভাবে ৮৬ সালে করেছিল, তাদের সাথে নতুন কয়েকটি লেজও গজিয়েছে, সুন্দর ছোট ছোট লেজও গজিয়েছি। আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি, বাংলাদেশের জনগণ রাজপথে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে এই দেশ থেকে।

এখন বাংলাদেশের মানুষ দেশ গঠন করতে চায় মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয়, আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয় করে তুলতে হবে, আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে ব্যবহার করতে হবে; তাহলেই আমরা এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব। বিএনপির পরিকল্পনা দেশ নিয়ে, দেশের মানুষকে নিয়ে। বিএনপি যে পরিকল্পনা, সেই পরিকল্পনার কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য যে কাজগুলো, সেগুলো একদিকে সফল করা। আরেকদিকে যারা ন্যায়বিচারকে, সঠিক বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যারা মানুষের জন্য গৃহীত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্তের জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিশু সুরক্ষায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো জোরদার করা জরুরি : ইউনিসেফ
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬