শিশু সুরক্ষায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো জোরদার করা জরুরি : ইউনিসেফ

| রবিবার , ২৪ মে, ২০২৬ at ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে ক্ষোভবিক্ষোভের মধ্যে সারা দেশে শিশু সুরক্ষায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো জোরদারের তাগিদ এসেছে ইউনিসেফের তরফে। বাংলাদেশে জাতিসংঘ শিশু তহবিলইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত শিশুদের বিরুদ্ধে নির্মম ও যৌন সহিংসতার ঘটনা যে হারে বেড়েছে তাতে সারা দেশে শিশু সুরক্ষায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো জোরদার করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

গতকাল শনিবার ‘শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে’ এমন আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নির্মম ও যৌন সহিংসতার ঘটনা যে হারে বাড়ছে তাতে সারা দেশে দ্রুত শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো জোরদার করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। খবর বিডিনিউজের।

শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার মতো অপরাধ বন্ধে ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, একই সঙ্গে প্রতিরোধ, অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা, কমিউনিটি সুরক্ষা এবং সামাজিক সেবাসমূহের মধ্যে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে। নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়ামহল্লা ও শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরো বাড়াতে হবে।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত। এর মধ্যে রয়েছে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা। অথচ যেসব জায়গায় তাদের নিরাপদ থাকার কথা ছিল, সেখানেই এসব সহিংসতার শিকার হয়েছে তারা। ভুক্তভোগী সব পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে ইউনিসেফ।

তিনি বলেন, সমাজে নীরবতা বজায় থাকলে সহিংসতা আরো ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিসেফ শিশু, নারী, পরিবার, কমিউনিটি ও সমাজের মানুষকে যেকোনো সহিংসতা বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানাচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনে আপনারা চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮এ যোগাযোগ করুন, যা ভুক্তভোগী শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে থাকে।

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মর্যাদার প্রতি সম্মান জানানো উচিত’, এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের এই প্রতিনিধি বলেন, তাদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক ধরনের নতুন নির্যাতন। যারা এগুলো শেয়ার করেন, তারা মূলত ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেন এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন। ইউনিসেফ সর্বসাধারণ, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকে সম্মান দেখান এবং এ ধরনের ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকেন। এর বদলে অপরাধীদের শাস্তি থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার অবসান ঘটানো ও মানুষের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন, আজ দেয়া হতে পারে চার্জশিট
পরবর্তী নিবন্ধঅরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে : প্রধানমন্ত্রী