ভারতে ৫ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে গোটা দেশের চোখ পাশ্চিমবঙ্গের দিকে থাকলেও গণনার দিন প্রচারের আলো এই রাজ্য থেকে কিছুটা হলেও কেড়ে নিয়েছে তামিলনাড়ু। তামিল রাজনীতির দুই প্রধান শক্তি ডিএমকে (দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম) এবং এআইএডিএমকে (অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজগাম)-কে পিছনে ফেলে ইতিহাস গড়ার পথে সুপারস্টার অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে (তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম)। খবর বিডিনিউজের।
আত্মপ্রকাশ করে প্রথম নির্বাচনেই তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোরগোড়ায়। অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয় চলতি বিধানসভা নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে জয়ী হলে তামিলনাড়ুর প্রায় ৪৯ বছরের রাজনৈতিক ধারার অবসান ঘটতে পারে। এবারের নির্বচনে বিজয়ের দল টিভিকে তৃতীয় বড় বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যা রাজ্যের দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় শাসনের একচেটিয়া এই রাজনৈতিক ধারায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ট্রেন্ড বলছে, বিজয়ের তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) মাত্র দুই বছর পুরোনো দল হলেও তারা প্রায় ১০০–১১৮ আসনের রেঞ্জে আছে। তামিলনাড়ুর ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য ১১৮টি আসন প্রয়োজন, ফলে বিজয়ের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোরগোড়ায়। বিজয়ের এই উত্থান দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ফল। এটি তার পূর্বসূরি অভিনেতাদের থেকে ভিন্ন ছিল। ২০০৯ সালে বিজয় তার ভক্তদের ক্লাবগুলোকে বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কম হিসেবে সংগঠিত করেন। এটি শুরুতে একটি সামাজিক ও সেবামূলক প্ল্যাটফর্ম ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটি ত্রাণকাজ, শিক্ষা সহায়তা এবং স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। ২০১১ সালে তিনি প্রথম প্রকাশ্যে এআইএডিএমকে–নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দেন। এটি ছিল বিজয়ের প্রথম সরাসরি নির্বাচনী অবস্থান এবং একটি পরীক্ষা যে, তারকাখ্যাতি ভোট কুড়াতে পারে কি না। এরপর ২০১০–এর দশকের শেষভাগ এবং ২০২০–এর দশকের শুরুর দিকে ধীরে ধীরে তার জনসভা, চলচ্চিত্র–সংক্রান্ত অনুষ্ঠান এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে রাজনৈতিক বক্তব্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বেকারত্ব, শিক্ষা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো সামনে আনতে শুরু করেন, যা বিশেষ করে তরুণ ও প্রথম ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। এভাবে দল আত্মপ্রকাশের আগেই বিজয়ের সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রমাণ মেলে। ২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কামের প্রার্থীরা যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল তার বেশিরভাগেই জয় পায়।














