অন্ধ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডব, ৫ মৃত্যু

বিপর্যস্ত জনজীবন, আশ্রয়কেন্দ্রে ১ লাখ ৮০ হাজার চট্টগ্রাম কক্সবাজারসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি

আজাদী ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। গতকাল স্থানীয় সময় ভোরে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র প্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম শুরু করে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজ্যটির বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লি, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী এলাকায় ঝড়ের সময় কারও মৃত্যু হয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কারও ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় প্রাণহানি ঘটেছে। ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ, বিমান ও রেল চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার অনেক বসতবাড়ি ও সড়ক। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রতিবেশী ওড়িশা রাজ্যেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। দুই রাজ্যের উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল মোতায়েনের পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র, জরুরি চিকিৎসা ও ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।

ঘূর্ণীঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত মঙ্গলবার ও গতরাতে চট্টগ্রাম ও কঙবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় গভীর সাগরে না যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, অন্ধ্রপ্রদেশে ঝড়ে অন্তত ৩১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৭১৪টির বেশি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বিভিন্ন এলাকায় ঝড়–বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।

ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া : বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ থেকে সৃষ্টি হওয়া অর্ণব শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। গত মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে গতকাল ভোরের মধ্যে এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র পুদুচেরির ইয়ানাম ও অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া–সংলগ্ন উপকূলের কাছ দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপকূল অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র ও এর সঙ্গে যুক্ত ঝড়ো বাতাস পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করতে কয়েক ঘণ্টা সময় নেয়। উপকূল অতিক্রমের পর স্থলভাগের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়টি ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে শুরু করে। তবে এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা অব্যাহত থাকে।

ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বহু মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে সড়ক পরিষ্কার করা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উপকূলবর্তী নিচু এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা থাকায় আগে থেকেই বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ইয়ানামের আঞ্চলিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ওড়িশা রাজ্যেও। কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের কারণে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। সম্ভাব্য ভূমিধস ও ভারী বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু সড়কে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখোলা বাজারে ডলার উঠেছে ১২৮ টাকায়
পরবর্তী নিবন্ধসন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ৭ দিনের রিমান্ডে