অনাহারের ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত

| শনিবার , ৬ জুন, ২০২৬ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত বিশ্বের লাখো মানুষকে আরও গভীর খাদ্য সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিডব্লিউএফপি।

জাতিসংঘের এ সংস্থা শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে খাদ্যের দাম। অন্যদিকে, তীব্র তহবিল সংকটের কারণে ত্রাণ সংস্থাগুলো তাদের সহায়তার পরিধি কমাতে বাধ্য হচ্ছে। খবর বাংলানিউজের।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে যে আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হয়, তা পারস্য উপসাগর থেকে লেবানন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার কারণে জাহাজগুলো বাধ্য হয়ে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও সাপ্লাই চেইনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

ডব্লিউএফপি মার্চে পূর্বাভাস দিয়েছিল, জুন পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের আশপাশে থাকলে বিশ্বের প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারে। সংস্থাটি বলছে, তাদের সেই আশঙ্কাই এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। মার্চের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওই স্তরের ওপরে অবস্থান করছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে আফগানিস্তান, সোমালিয়া ও শ্রীলঙ্কার মত দেশগুলো। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আয় কমে যাওয়া এবং পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এসব দেশের সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ডব্লিউএফপির তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে সোমালিয়ায় প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় একতৃতীয়াংশ। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে এই সংখ্যা পৌঁছাতে পারে ১ কোটি ৭৪ লাখে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপুতিনকে বৈঠকের প্রস্তাব জেলেনস্কির, ক্রেমলিনের বার্তা মস্কো আসুন
পরবর্তী নিবন্ধসেন্টমার্টিনে হাঁস খেয়ে ক্ষেতের জালে আটকা অজগর