পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার গুরুত্ব

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন | রবিবার , ৮ নভেম্বর, ২০২৬ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

মানুষ সমাজে বসবাস করে, একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রাখে, অপরের মতামত প্রকাশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, অপরের সংস্কৃতি চর্চাকে সম্মান জানায়। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেখানোই হলো একটি মানবিক ও সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম নিয়ামক। অন্যদিকে সমাজে মানুষ ভিন্ন মতের হতে পারে, ভিন্ন চিন্তা করতে পারে, ভিন্ন আদর্শে পরিচালিত হতে পারে–এটাই প্রকৃতির নিয়ম। এটাকে শান্তিপূর্ণভাবে, সম্মানের সাথে মেনে নেওয়াই হলো সহনশীলতা। কোন অবস্থাতেই ভিন্ন মত প্রকাশ করা কিংবা ভিন্ন চিন্তা করা মানুষের প্রতি কোন অবস্থায় ঝগড়াঝাটি করে সংঘাত সৃষ্টি করা উচিত নয়। সত্যি কথা বলতে আজকে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার ঘাটতি রয়েছে। এটাকে ফিরিয়ে আনতে হলে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, সমপ্রীতি ও সৌহার্দ্য পূর্ণ আচরণ করা এবং একে অপরকে সম্মান করে কথা বলা। তাহলে সমাজে নিজের কর্তৃত্ব বৃদ্ধি করতে পারবে, সম্মানিত হতে পারবে। আজ বিভিন্ন অফিস, আদালতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, চাকরিস্থলে সর্বদিকে হিংসা, বিদ্বেষ, সংঘাত, বিভেদ বিরাজমান। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ধৈর্য ধরে, নৈতিকতার ভিত্তিতে সহনশীল হয়ে বিবেকবান মানুষের মতো কাজ করতে হবে। আজকে চারিদিকে উত্তেজিত হয়ে বক্তব্য দিতে শুনা যায়, যুবসমাজকে চমকপ্রদ কথা বলে আকৃষ্ট করতে দেখা যায়, অনৈতিক কার্যক্রমে ধাবিত করতে দেখা যায়, অন্যের ক্ষতি করতে দ্বিধাবোধ করে না, ভালো মন্দ বুঝার পরামর্শ দেয় না, অপরের সম্মান হানি করতে বেশিক্ষণ সময় ক্ষেপণ করে না। আর এসব কারণে আজ পরিবার, সমাজ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যদি সত্যিকার অর্থে একটি বৈষম্যহীন সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই, তাহলে আমাদের সমাজের প্রত্যেকে অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে, একেবারে শিশুকাল থেকে মানবিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার শিক্ষা দিতে হবে, বিভেদ সৃষ্টিকারী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে, সর্বদা ভিন্ন মত প্রকাশকারীদের সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখাতে হবে, সকল প্রকার হিংসা বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকতে হবে। এভাবেই ভিন্ন মতকে পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখানোর মাধ্যমে হিংসা বিদ্বেষ থেকে দূরে থেকে নৈতিকভাবে নিজেকে গড়ে তোলার আন্দোলনে সংযুক্ত করে একটি সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করা সম্ভব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজীবনের স্বরলিপি