স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করে ফ্যাসিবাদের আগমনকে সুগম করতে চায়, তাদের উদ্দেশে একটা কথা বলি, বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারীকে এদেশে আর রাজনীতি করতে দেবে না। যারা গণহত্যা চালিয়ে এখনো পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি, অনুশোচনা করেনি, অনুতপ্ত নয়; যারা গণ অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়ে দিল্লির আপন ঠিকানায় বসে আছে, তারা কখনো এদেশে এসে রাজনীতি করতে পারবে না।
গতকাল শুক্রবার ফটিকছড়ির জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসার দুদিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিলের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গণ অভ্যুত্থান–পরবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে নির্বাচন, তার আগে এবং আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীনের পক্ষে ও দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ জারি রেখেছিল, তার নেতৃত্বে ছিলেন হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হুজুর। ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকার থেকে এ দেশকে উদ্ধার করতে ১৬–১৭ বছর লেগেছে। রক্ত দিয়েছে আলেম–ওলামারা। শাপলা চত্বরে শহীদ হয়েছেন অনেকে, যাদের নাম আমাদের এখনো জানা নাই, কবরের ঠিকানা জানা নাই, যা অত্যন্ত আফসোসের। এতে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসাটির মহাপরিচালক এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের একেকজনের একেক মত থাকতে পারে, কিন্তু একটা প্রশ্নে আমরা সবাই একমত, এদেশের মানুষকে যারা হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর আলেম–ওলামাদের শান্তি দেয়নি, মসজিদে বসে নামাজ আদায় করতে দেয়নি, মসজিদকে রক্তাক্ত করেছে, সেই সমস্ত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এদেশের মানুষ আর রাজনীতি করতে দেবে না।
দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, যারা আন্দোলনের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, সমালোচনা করুন, তবে তা গঠনমূলক হতে হবে। আমরা চাই এ দেশটাকে ঐক্যবদ্ধ রেখে অর্থনৈতিক উন্নতি করতে। শুধু জুলাই–আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের সময় জাতিসংঘের হিসাবমতেই ১৪০০ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে।
ধর্মের নামে রাজনীতি করা কিছু দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা ইসলামের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করছে, অথচ তাদের রাজনৈতিক মেনিফেস্টোতে ইসলামের ধারেকাছেও কিছু নাই। যারা ইসলামি দল বলে নিজেদের ঘোষণা দিচ্ছে, তাদের দলীয় মনোগ্রাম থেকে আকিমুদ দ্বীন বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু তাদের দালিলিক প্রমাণ সেটা বলে না। তারা কখনো তাদের ইশতেহারে বলেনি তারা ইসলামি শাসন চায়। তারা কখনো বলেনি তারা এ দেশে শরিয়াভিত্তিক আইনকানুন চায়, বরং তারা উল্টো বলেছে।
নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাস করি। যারা ধর্মের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করছে, তাদের কার্যকর্মে কোনো ধর্মীয় প্রতিফলন নাই। তারা কেবলই এ দেশে বিভক্তির সৃষ্টি করছে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাত্র–জনতার গণ অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা–পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়গুলো সংবিধানে ধারণ করা হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করতে হবে গঠনমূলকভাবে। সরকারকে সহযোগিতা করা যেতে পারে, তবে দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেওয়া যাবে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
মাহফিলে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম–ওলামা, আমন্ত্রিত অতিথি, মাদ্রাসার শিক্ষক–শিক্ষার্থী এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমান উপস্থিত ছিলেন।












