যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা, ডেমোক্র্যাটরা ভালো করতে পারে

| মঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর, ২০২৬ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রে আজ ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হবে এই নির্বাচনে। তার জনসমর্থন কমে যাওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের কারণে অনেক বিশ্লেষক ও জনমত জরিপে ধারণা করা হচ্ছে, এ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে পারে। সামপ্রতিক জনমত জরিপগুলোতেও দেখা গেছে, আগে যেসব আসনে রিপাবলিকানদের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হতো, সেসব আসনেও ডেমোক্র্যাটরা ক্রমেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাম্পের রক্ষণশীল রাজনৈতিক ঘাঁটিগুলোতেও নিজেদের নির্বাচনী তৎপরতা বাড়াচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের রাতে ডেমোক্র্যাটরা ভালো ফল করবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের বিজয়ের মাত্রা কতটা বড় হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ছয়জন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক দলের কৌশলবিদ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কয়েকটি কারণে ডেমোক্র্যাটরা অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বড় ধরনের নির্বাচনী জয়ে রূপ দিতে ব্যর্থও হতে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে দলটির আসনসংখ্যা বাড়তে পারে।

এ নির্বচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা অপেক্ষা করছে। শুধু আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই বাধা তৈরি হবে না, হোয়াইট হাউসের ভেতরেও শুরু হতে পারে বড় ধরনের রদবদল। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের চাকরি হারানো কিংবা প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয় হলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে কে দায় নেবেন, কাকে বরখাস্ত করা হবে এবং কারা নিজেরাই সরে যাবেন–তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা সিএনএনকে বলেছেন, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট–দুই কক্ষেই দলটি হারলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা বলা কঠিন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এসব আলোচনাকে ভিত্তিহীন জল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ কয়েকজন মন্ত্রিসভার সদস্যও নতুন করে তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারেন। তাদের কেউ কেউ পদ ছাড়ার কথা ভাবতে পারেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের প্রশাসনিক কাজেও বাধা বাড়বে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, শুনানি ও সমন জারির ক্ষমতা পাবে। বড় ব্যবধানে জয় পেলে অভিশংসনের দাবিও জোরালো হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা ও আইন আটকে দেওয়ার ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকবে।

সিনেটও ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে ট্রাম্পের বিচারক, মন্ত্রিসভার সদস্য ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি হতে পারে। তবে দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলেও ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এবং সিনেটের ৬০ ভোটের নিয়মের কারণে বড় আইন পাস করা সহজ হবে না। বাজেট ও সরকারি ঋণসীমা নিয়ে ২০২৭ সালে ওয়াশিংটনে অচলাবস্থা এবং সরকার অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হয়। ১৯৪৬ সালের পর থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৬টির বেশি আসন হারিয়েছে। এবারও রিপাবলিকানদের জন্য সেই ঐতিহাসিক প্রবণতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সেনেট আসনের লড়াই নাটকীয় মোড় নিয়েছে। তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল এল–সায়েদকে বর্জন করে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বর্তমান কংগ্রেস সদস্য হেলি স্টিভেন্স। স্টিভেন্স নিজে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারিতে এল–সায়েদের কাছে হেরে গিয়েছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমোমবাতির আলোয় প্রিয়জনদের স্মরণ
পরবর্তী নিবন্ধপরিত্যক্ত ৫৪ সরকারি বাসা দখলে রেখে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ