খাগড়াছড়িতে ১০০ কিলোমিটার আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথন

তিনটি বিভাগে অংশ নিলেন ১৮৫ জন দৌড়বিদ

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি | রবিবার , ১ নভেম্বর, ২০২৬ at ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

কার্তিকের ভোর, পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, সবুজ বনের মধ্যে খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ১০০ কিলোমিটার আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথন ‘অ্যালবাট্রস আল্ট্রেইল–২০২৬’। তিনটি বিভাগে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন ১৮৫ জন দৌড়বিদ। গতকাল শনিবার সকাল ৬টায় শুরু হয় ৩৩ ও ৫০ কিলোমিটার বিভাগের দৌড়। এর আগে ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় খাগড়াছড়ির মায়াবিনী লেক থেকে ১০০ কিলোমিটার দৌড়ের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রায় এক হাজার দৌড়বিদ আবেদন করেছিলেন। যাচাই–বাছাই শেষে তিনটি বিভাগে ১৮৫ জনকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। পাহাড়ের দুর্গম ও আঁকাবাঁকা পথে নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করেন প্রতিযোগীরা। ৩৩ কিলোমিটার পুরুষ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হন মো. শাসুজ্জামান আরাফাত। তিনি সময় নিয়েছেন ৪ ঘন্টা ৩ মিনিট ১৬ সেকেন্ড। অংশগ্রহণকারী জেরিন জানান, ‘রান করছি খুব বেশিদিন না হলেও হবে, নতুন বছর থেকে রান করছি। কিন্তু পাহাড়ের রানটা অলমোস্ট এবারই প্রথম অফিশিয়ালিভাবে প্রথম রান করছি। পাহাড়টা বেছে নেওয়ার কারণ হচ্ছে পাহাড়টা টোটালি ডিফরেন্ট একটা পাথ সবার জন্যই। সেখানে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, অনেক কিছু ফেস করতে হয়। যেটা নরমালি আমরা যে রোড রানগুলো করে থাকি, সেটা থেকে একেবারেই ডিফরেন্ট হয়ে থাকে। আর সেটা মাথায় রেখেই মূলত হচ্ছে পাহাড়ি পথটুকু বেছে নেয়া। আর এবার আমি ৩৩ কিলোমিটারের রান করছি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়তো ফিনিশিং লাইন ক্রস করার ইচ্ছে আছে। আর বাকি পথটুকু হয়তো একটু সহজ হবে, কোথাও একটু কঠিন হবে। সবকিছু মিলিয়ে চেষ্টা করব আর কি সম্পূর্ণভাবে সুস্থভাবে ঠিক থাকার জন্য। রান যেভাবেই হোক না কেন, রোডে বা পাহাড়ে, অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে শরীরটা আগে। শরীরের কথা শুনে আপনাকে আগাতে হবে। এটাই হচ্ছে রানের মূল মন্ত্র, আপনাকে সুস্থ থাকতে হবে। সুস্থ থাকলে রানটা অটোমেটিক্যালি আপনাকে পুশ করবে।’

অংশ নেয়া দৌড়বিদ আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মত বিশ্বমানের আল্ট্রা ট্রেইল হচ্ছে। আমি ৩৩ কিলোমিটারে অংশগ্রহণ করছি। এটাই আমার ফার্স্ট টাইম। আমি চাইছি খুব সুন্দরভাবে যাতে হয় আমার ট্রেইল রানটা এবং আমার সর্বনিম্ন সময়ের মধ্যে যাতে শেষ করতে পারি।’ প্রতিযোগিতা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উৎসাহ–উদ্দীপনা দেখা যায়।

তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে দেশি–বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা–বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজ টি-২০ ক্রিকেট লিগে রাইয়ান স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন
পরবর্তী নিবন্ধআমরা ভালো বোলিং করিনি বললেন শান্ত