চট্টগ্রাম ওয়াসার মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প–২ এর ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) শুরু হচ্ছে আগামী মাস থেকে। প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য কোরিয়ান প্রতিনিধি দল আসবে আগামী মাসে। প্রকল্পের অর্থায়ন করবে দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ (ইডিসিএফ কোরিয়ান এঙ্মি ব্যাংক ফান্ডেড প্রজেক্ট)। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষ থেকে জানা গেছে, এই প্রকল্প থেকে দৈনিক ২০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হবে। এই প্রকল্পের পানি আসবে রাঙ্গুনিয়ার পোমরার কর্ণফুলী নদী থেকে। ওই এলাকা থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি মোহরা শোধনাগারে আসবে। মূলত লবণাক্ততা পরিহারের জন্য মোহরা এই প্রকল্পের ইনটেক পয়েন্ট (পানি তোলার স্থান) রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার মোহরা এবং মদুনাঘাট পানি শোধনাগারে বছরের ৩ থেকে ৪ মাস লবণাক্ততার কারণে পানি উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়।
প্রকল্পের অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম আজাদীকে জানান, চট্টগ্রাম ওয়াসার মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প–২ এর অগ্রগতি হয়েছে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ)। তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী মাসে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য কোরিয়ান প্রতিনিধি দল আসবে। এই প্রকল্প থেকে দৈনিক ২০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হবে। তারা নিজস্ব খরচে সম্ভাব্যতা যাচাই করে সম্ভাব্য ইনটেক (পানি তোলার স্থান) নির্ধারণ করবে। ফিজিবিলিটি স্টাডি করে তারপর তারা ফান্ডিং করবে। এই প্রকল্পের পানি আসবে রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদী থেকে। ইনটেক পয়েন্ট থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি (মোহরায়) প্ল্যান্টে নিয়ে আসা হবে। ওয়াসার মোহরা ও মদুনাঘাট পানি শোধনাগারের পানি উত্তোলন করা হয় হালদা থেকে। এই দুই প্রকল্পে প্রায় সময় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি উৎপাদন হ্রাস পায়। এ জন্য মোহরা প্রকল্প–২ এ লবণাক্ততা পরিহারের লক্ষ্যে ইনটেক পয়েন্ট স্থানান্তর করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না জানিয়ে প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, মোহরা প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। প্রকল্প এলাকায় আমাদের নিজস্ব জমি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পটি (পেইজ–২) ২০০৩ সালের ৬ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। দুই দশকের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্পটির কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। চট্টগ্রাম ওয়াসার বর্তমান এমডি প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম চট্টগ্রাম ওয়াসায় যোগদানের পর অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পরার্মশে ওয়াসার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন।
এই ব্যাপারে ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই এলাকার সন্তান। মন্ত্রী মহোদয়ের সহযোগিতায় আমি এসব প্রকল্প হতে নিতে পারছি। উনি থাকা অবস্থায় যদি চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন করতে না পারি তাহলে চট্টগ্রামের পানি সংকট কাটবে না। দীর্ঘদিনের পানি বঞ্চিত এলাকা বন্দর–পতেঙ্গায়ও পানি সরবরাহের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী এক–দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
এছাড়াও কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প–৩ নামে আরও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের পানি আসবে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা কর্ণফুলী নদী থেকে। বিদ্যমান পাইপ লাইন দিয়ে ওইখান থেকে নগরীতে পানি আসবে। এই প্রকল্প থেকে দৈনিক ১০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হবে। এটির অর্থায়ন করবে জাইকা। এদিকে ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে বাড়ানোর জন্য আরও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে দক্ষিণ কোরিয়ার এঙ্মি ব্যাংক।












