শতাব্দীকে হারিয়ে শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখলো বাদশা মিয়া স্মৃতি সংসদ

রাফি স্মৃতি জুনিয়র ক্রিকেট লিগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | মঙ্গলবার , ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত এবং দ্য ডেইলি পিপলস ভিউ’র পৃষ্ঠপোষকতায় রাফি স্মৃতি জুনিয়র অনূর্ধ্ব–১৮ টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগের শিরোপা অক্ষুন্ন রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাদশা মিয়া স্মৃতি সংসদ। এ নিয়ে তিনবার ফাইনালে উঠেছে দলটি। দু’বার চ্যাম্পিয়ন এবং একবার রানার্স আপ হয়েছে তারা। গতকাল সোমবার দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তারা ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমিকে হারায়। খেলায় টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা বাদশা মিয়া স্মৃতি সংসদ ৫ উইকেটে রেকর্ড দলীয় সর্বোচ্চ ২১৭ রান করে। জবাবে শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমি ১৭.১ ওভারে ১১৩ রানে গুটিয়ে যায়। উল্লেখ্য, এর আগে বায়েজিদ স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমি সর্বোচ্চ দলীয় ১৭৭ রান করেছিল। বাদশা মিয়া স্মৃতি সংসদের এই রেকর্ড দলীয় রানের মধ্যে ছিল ওপেনার ইমন চৌধুরীর অনবদ্য সেঞ্চুরি। তিনি মাত্র ৫৪ বলে ৫টি চার ও ১১ ছক্কায় ১০৫ রান করেন।

উল্লেখ্য চলতি আসরে এটাই প্রথম কোন সেঞ্চুরি। বাদশা মিয়া স্মৃতি সংসদের ইনিংসে ইমন চৌধুরীর সেঞ্চুরি (১০৫) ছাড়া মারজুক আলম রুমিন ৪৩, ইকবাল হোসেন ২৫ ও অধিনায়ক অনুরাগ বড়ুয়া ১৮ রান করেন। উল্লেখ্য ওপেনিং জুটিতে বাদশা মিয়া স্মৃতি সংসদের ইমন চৌধুরীর সেঞ্চুরি ও মারজুক আলম রুমিন রেকর্ড ১৩৮ রান পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থেকে বিশাল স্কোরের ভিত গড়ে দেন। অতিরিক্ত খাতে ১৫ রান যোগ হয়। শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমির মোহাম্মদ নাহিদ ১১, জুবায়েদ আলম ২০, মোহাম্মদ রবিউল ২২, মোহাম্মদ মিসবাহ ৩০ ও অজয় মজুমদার ৩০ রানে প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট নেন। শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমির হয়ে শামীম হোসেন ৪০, প্রাঞ্জল দাস ২২, আরমান হোসেন ১৫ ও জুবায়েদ আলম ১৪ রান করেন। দলের আর কোন ব্যাটার দু–অংকের রান করতে পারেননি। বাদশা মিয়া স্মৃতি সংসদের সাজীদুল ইসলাম ১২ ও অনুরাগ বড়ুয়া ১৩ রানে প্রত্যেকে ৩টি করে উইকেট দখল করেন। মোহাম্মদ সাফায়েদ ৩০ রানে ২ উইকেট পান। খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ও মহানগর ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি হাসান মো. শওকত আলী। চ্যাম্পিয়ন বাদশা মিয়া স্মৃতি সংসদকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ও ট্রফি এবং রানার্স আপ শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমিকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও ট্রফিসহ দু–দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়দের মেডেল প্রদান করা হয়। এছাড়া জয়ী দলের সেঞ্চুরিয়ান ইমন চৌধুরীকে সর্বোচ্চ ১৯৩ রান এবং একই দলের মোহাম্মদ সাফায়েদকে সর্বাধিক ১৩ উইকেট দখলের জন্য পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রামের উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) ও মহানগর ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলী চৌধুরী। আরো বক্তব্য রাখেন, মরহুম রাফির পিতা, দ্য ডেইলি পিপলস ভিউ’র সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক ওসমান গনি মনসুর। এ সময় অন্যানের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থার সহ–সভাপতি ইবাদুল হক লুলু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ খান, যুগ্ম সম্পাদক ও ক্রিকেট কমিটির সম্পাদক ফরিদ আহম্মদ, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, উপ পুলিশ কমিশনার (ওয়েলফেয়ার) আমিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। মিস মেহেজাবিন আফরিনের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সংস্থার কোষাধ্যক্ষ নওশাদ আলম চৌধুরী, আ ন ম ওয়াহিদ দুলাল, রুশো মাহমুদ, সংস্থার নির্বাহী সদস্য ও ফুটবল সম্পাদক মাহাবুবুল আলম মুকুল, নির্বাহী সদস্য রাকিব মাহমুদ, আলী তারেক পারভেজ, নাসির মিঞা, সাজীব বিকাশ বড়ুয়া টুটুল, মনতোষ ঘোষ, ফরিদা বেগম ও ফারজানা জেসমিন খান, সংস্থার ক্রিকেট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাই জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর পন্টি, শাহ মাহফুজুর রহমান পল্লব, ওয়াসিম কামাল রাজা, ইয়াসিন আরাফাত ও সদস্য আইনুল কবির জিতু ও কাজল দেবনাথ, সাবেক জাতীয় ফুটবলার মোবিনুল ইসলাম খসরু, ক্রীড়া সংগঠক লায়ন এম এ মুসা বাবলু, সংস্থার ফুটবল কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ও মোহাম্মদ নাছির, হ্যান্ডবল কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তানজিনা রহমান ও কাবাডি কমিটির সম্পাদক হারুন–উর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য গত ৮ অক্টোবর ২৪টি দল নিয়ে এ ক্রিকেট লিগের খেলা শুরু হয়েছিল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডি-থ্রি ট্রফির নিলামে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে আলো ছড়ালেন শরিফুল
পরবর্তী নিবন্ধতিন দশক পর মিউজিক ভিডিওতে দিলারা জামান