চুরির অভিযোগে কর্ণফুলীতে মো. তাসকির আহম্মেদ (২৮) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ওই এলাকা থেকে হাত–পা বাঁধা অবস্থায় তাসকিরকে উদ্ধার করে। তাসকির চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইছানগর এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। পেশায় দিনমজুর তাসকির বর্তমানে চরলক্ষ্যার বাদামতল এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন।
এ ঘটনায় গতকাল রোববার সকালে তাসকিরের স্ত্রী শাহীনুর আক্তার বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি মো. সাদ্দাম (৪৫) ও মো. শাহাজাহানকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিরা হলেন চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতল এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে মো. জসিম (৫৫) এবং নুর ইসলামের ছেলে ইলিয়াছ (৪৫)। গ্রেপ্তার সাদ্দাম একই এলাকার মো. মুছার ছেলে এবং শাহাজাহান আবুল কালামের ছেলে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাসকিরকে গতিরোধ করে আটক করেন আসামিরা। পরে চুরির অভিযোগ তুলে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে হাত–পা বেঁধে বৈদ্যুতিক তার, প্লাস্টিকের পানির পাইপ ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সময় তাসকিরের পকেটে থাকা দুই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন আসামিরা। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে এ ঘটনা কাউকে জানালে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
তাসকির আহম্মেদ বলেন, রাত ১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চুরির অভিযোগ এনে আমাকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে। চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কী কারণে আমার ওপর এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা আমিও জানি না। আমি এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমার স্ত্রী এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক জয়নাল আবেদীন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কর্ণফুলী থানার ওসি নূর আহমেদ বলেন, চুরি করলে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হবে। কিন্তু এভাবে কাউকে নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।












