তায়েফ শহরের সুন্দর এক বিকেল

নুসরাত সুলতানা | সোমবার , ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ at ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর স্মৃতি বিজড়িত ‘তায়েফ’ শহরে যাওয়ার জন্যে মন আকুল হয়ে আছে। তাই দ্রুততম সময়ে লাঞ্চ করে হোটেলের লবিতে নেমে গেলাম। এখানে (মক্কায়) সবাই সময়ের ব্যাপারে খুব সচেতন। সবাই সময় মতো লবিতে হাজির। আমাদের গ্রুপের সদস্য ছাড়াও অন্যান্য গ্রুপ থেকে কয়েকজন যুক্ত হয়েছেন। আমরা সবাই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সানগ্লাস, ছাতা, খাওয়ার পানি ইত্যাদি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। নামাজের সময় হারামের রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তাই আমরা অনেক দূর হেঁটে গিয়ে মিসফালাহ ব্রিজের নিচে পৌঁছে গাড়িতে উঠলাম। ‘তায়েফ’ যাওয়ার জন্য (২৯ মে ২০২৫) বাস ঠিক করা হয়নি। বাস যে পথে ‘তায়েফ’ যায় সে পথে যেতে সময় অনেক বেশি লেগে যায়। তাছাড়া ২০২৫–এর এই হজ্বের দিনগুলোতে সবদিকে শুধু চ্যাকিং পয়েন্ট। Nusuk card চেক করা হয় প্রতি রাস্তার মোড়ে মোড়ে। এতে যাতায়াতে সময় লেগে যায় অনেক বেশি। আমাদের জন্যে চারটা গাড়ি ঠিক করা হয়েছে। যেগুলোর ধারণ ক্ষমতা চালকসহ মোট ১৪ জন করে। আমরা গাড়িতে বসার সাথে সাথেই গাড়ি চলতে শুরু করলো। পথিমধ্যে গাড়িতে তেল নেওয়া হলো। অনেক দূরের পথ। দ্রুত গতিতে গাড়ি চলছে। চেক পয়েন্টগুলোতে সৌদি পুলিশ কর্তৃক নুসুক কার্ড চেক করে করে আমাদেরকে ছাড়ে। হাজীদের নিরাপত্তার জন্যেই এই ব্যবস্থা। তবে এতো বেশি চেক করে যে, অনেক সময় মনে দুঃখ লাগে! আগেরবার উমরাহতে এসে আমরা যখন তায়েফ গিয়েছিলাম তখন বাসে করে গিয়েছিলাম। এবার ভিন্ন রাস্তায় যাচ্ছি।

অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের গাড়ি পাহাড়ি রাস্তায় উঠতে শুরু করলো। কী আশ্চর্য সুন্দর! কঠিন পাথরের পাহাড় কেটে কেটে সমান করে এতো বড় রাস্তা কিভাবে যে তৈরি করা হয়েছে একমাত্র আল্লাহই জানেন! আঁকাবাঁকা সর্পিল রাস্তাগুলো কঠিন পাথরের পাহাড় ঘুরে ঘুরে উপরে উঠে গেছে। গাড়ি চলছে ঘন্টায় শত মাইলের কাছাকাছি। আমি আশ্চর্য হয়ে ভাবি! এতো গাড়ি এতো দ্রুতগতিতে কোথায় যায়? আধুনিক রাস্তায় এবং পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যত বেশিই হোক না কেনো দ্রুত গতিতে গাড়ি চলার সময় আমার মনে মনে ভয় লাগে। আমি অনবরত দোয়া–দরুদ পড়তে থাকি। পাহাড়ে সুন্দর করে ক্যাবল কারগুলো চলছে একের পর এক লাইনে লাইনে। পাহাড়ের উপর থেকে কিছু নিচে নামছে আবার কিছু কিছু উপরে উঠছে, দেখতে অপূর্ব লাগে! অনেক পর্যটক ক্যাবল কারে করে ঘুরছেন। পাহাড়ে আঁকাবাঁকা এই রাস্তা ধরে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,১৬৫ ফুট উপরে চলে এলাম দেড় ঘন্টার মধ্যে।

কী সুন্দর সবুজ এই তায়েফ শহর! ফুলে ফুলে ভরে আছে চারপাশ! বিশাল বিশাল সাইজের ক্যাকটাস গাছে ভরে আছে পাহাড়। দেখে আশ্চর্য না হয়ে উপায় আছে? লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটে আছে পাহাড়ে। এই সময়ে আমাদের দেশেও কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে। কিন্তু আমরা আমাদের দেশের সৌন্দর্য এতো দারুণভাবে উপভোগ করতে পারি না। গাড়ি চলতে চলতে কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা চলে এলাম Rashed AI Qurashi Factory নামক সুগন্ধি তৈরির এক কারখানায়। বড় বড় কাঁচের হাড়ি চুল্লি ইত্যাদি দেখলাম। তবে এই সময়ে গোলাপ ফুলের সিজন না হওয়ায় ফুলের পাপড়ি থেকে কিভাবে সুগন্ধি তৈরি হয় তা দেখার সৌভাগ্য হলো না। অনেক দামি Oud কিন্তু এখানেই তৈরি হয়। তবে আমরা বিশাল সাইজের গোলাপ ফুলের বাগান দেখতে পেলাম। বড় বড় গোলাপ ফুলের গাছগুলো সবুজ পাতা আর কাঁটায় ভর্তি। পাতার সৌন্দর্যও দেখার মতো। বিমোহিত হয়ে দেখছি। ত্বিন ফলের গাছে ছোট ছোট সবুজ রঙের ফল ধরে আছে। আরো কিছুদিন পর ত্বিন ফলগুলো পরিপক্ক হবে। আনার ধরে আছে থোকায় থোকায়। গাছে গাছে আলবোখারা পেকে আছে, দেখতে বড় সাইজের বরই এর মতো। পেকে কমলা ও হলুদ রং–য়ের হয়ে ঝড়ে পড়ছে আলবোখারা। আমরা সবাই পাকা আলবোখারা খেলাম। শুকনো যেগুলো আমরা সাধারণত বিরিয়ানিতে ব্যবহার করি সেরকম হয়নি এখনো। এই দেশে এখন এই ফল বক্সে করে বিক্রি হচ্ছে। মক্কায় আমরা কিনে খেয়েছি। বড় বড় গাছে raspberry ধরে আছে। কিছু কিছু পেকেছে। আমরা সবাই নিজ হাতে গাছ থেকে ছিঁড়ে টক মিষ্টি স্বাদের রেস্পবেরি খেলাম। এখানে পার্কের মতো সাজানো চমৎকার জায়গায় বসে গোলাপ ফুলের নির্যাসে তৈরি ‘গোলাপ চা’ খেলাম। পাশেই বড় একটা শোরুম থেকে রোজ–এর সুগন্ধিযুক্ত ক্রিম এবং পাউডার কিনলাম।

সৌদি আরবের অনানুষ্ঠানিক গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই শহরের আবহাওয়া মনোরম এবং নাতিশীতোষ্ণ। ফলে পর্যটকদের মধ্যে এই জায়গার অত্যন্ত জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ–জায়গা কৃষি উৎপাদনের জন্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এখানে আঙ্গুর, ডালিম, ত্বিন, গোলাপ এবং মধু চাষ হয়। গোলাপ থেকে আতর তৈরিতে তায়েফ সক্রিয়। সেজন্যই এই শহরকে স্থানীয়ভাবে গোলাপের শহর বলা হয়।

চলতে চলতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর স্মৃতি বিজড়িত প্রিয় এ জায়গার সৌন্দর্য দেখে বিমুগ্ধ হয়ে মন প্রাণ শীতল করে আমরা চলে এলাম আব্বাসীয় মসজিদে। তায়েফ শহরের পুরোনো অংশে শহরের কেন্দ্রস্থলে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস সড়কে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি অবস্থিত। ‘মসজিদে ইবনে আব্বাস (রা🙂 একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্থান। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই এবং কোরআনের প্রখ্যাত ব্যাখ্যাকারী ও মুফাসসির হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর নামানুসারে এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। এই মসজিদের পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। সময়ের সাথে সাথে বহুবার মসজিদের সংস্কার ও সমপ্রসারণ করা হয়েছে। বিশাল এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা এই মসজিদটি চমৎকার পাথরের স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক ইসলামিক নকশার সংমিশ্রণে তৈরি। এর ভেতরের পরিবেশ বেশ শান্ত, স্নিগ্ধ ও খোলামেলা। এতো সুন্দর আর এতো পরিপাটি মসজিদটিতে প্রবেশ করলে যে কারোরই ভালো লাগবে। আমরাও অজু করে আসরের নামাজ পড়লাম। কবর জিয়ারত করলাম। উমরাহ এবং হজ্বে আসা মানুষের জন্য তায়েফ জিয়ারতের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই মসজিদ।

এখানে সবাই সবকিছুতে ফাস্ট ফাস্ট রান রান অবস্থাতে থাকি। সবার এনার্জি লেভেল যেনো সেইম। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে যুবক–যুবতী সবাই একই গতিতে চলে। আব্বাসীয় মসজিদ থেকে বেরিয়ে আমরা চলে গেলাম আদ্দাস মসজিদের পাশে বিখ্যাত সেই বুড়ির বাড়িতে। এবার আমরা আদ্দাস মসজিদে গেলাম না। তবে গতবার আমরা যখন আমার বাচ্চাদেরকে নিয়ে উমরাহতে এসেছিলাম তখন আদ্দাস মসজিদেও প্রবেশ করেছিলাম। তায়েফে অবস্থিত ‘মসজিদে আদ্দাস’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক মসজিদ। ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত আবেগঘন এবং বেদনাদায়ক একটি অধ্যায়ের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এই মসজিদটি আজও দাঁড়িয়ে আছে। নবুয়্যতের দশম বছর বা ‘আমুল হুজন’ (দুঃখের বছর)-এ মক্কার কাফেরদের অত্যাচার সইতে না পেরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর সঙ্গী জায়েদ বিন হারিসকে নিয়ে তায়েফে ইসলামের দাওয়াত দিতে যান। কিন্তু তায়েফবাসী তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাঁদেরকে পাথর মেরে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করেন। রক্তাক্ত ও ক্লান্ত শরীরে তায়েফ থেকে ফেরার পথে নবীজি (সা.) মক্কার কুরাইশ বংশের দুই সর্দার–উতবা ও শায়বাহ ইবনে রাবিয়ার একটি আঙুর বাগানে আশ্রয় নেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই অবস্থা দেখে আঙ্গুর বাগানের মালিক দয়া পরবশ হয়ে তার অনুগত অমুসলিম ক্রীতদাস আদ্দাসকে দিয়ে মুহাম্মদ (সা.) জন্যে এক থোকা আঙুর পাঠান। নবীজি (সা.) আঙুর খাওয়ার আগে যখন উচ্চস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ বললেন, তখন আদ্দাস বিস্মিত হলেন। পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত এক কথপোকথনে নবীজি (সা.) যখন নিজেকে আল্লাহর নবী এবং আদ্দাসের নিজ শহরের পুণ্যবান নবী ইউনুস (আ.)-কে নিজের ভাই হিসেবে উল্লেখ করেন, তখন আদ্দাস সত্য অনুধাবন করতে পারলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তায়েফ অঞ্চলের প্রথম মুসলিম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, যে আঙুর বাগানে এই মহান ও অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছিলো পরবর্তীকালে ঠিক সেই স্থানেই এই শ্বেতশুভ্র ‘মসজিদে আদ্দাস’ নির্মিত হয়। মসজিদটি আকারে বেশ ছোট এবং এর চারপাশের পরিবেশ সবুজ গাছপালা বেষ্টিত, মনোরম। দু’পাশে পাথরের দেয়াল দেয়া চিকন একটা গলি ধরে আদ্দাস মসজিদে যেতে হয়। আদ্দাস মসজিদে না গিয়ে আমরা গেলাম আমাদের প্রত্যেকের ছোটবেলা থেকে শুনে আসা গল্পের বিখ্যাত সেই বুড়ির বাড়িতে। নামাজ পড়ার জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পথে মসজিদে আসা–যাওয়া করতেন সে পথে প্রতিদিন ভয়ংকর কাঁটাযুক্ত গাছ কেটে বিছিয়ে দিতেন যে বয়স্ক মহিলা তিনি আমাদের সবার কাছে বুড়ি নামে পরিচিত। প্রতিদিন কাঁটাযুক্ত গাছগুলো সরিয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নামাজ আদায় করতে যেতেন। কখনো বিরক্তি প্রকাশ করতেন না। রাগারাগি করতেন না। একদিন মসজিদে যাওয়ার পথে কাঁটাযুক্ত গাছ বিছানো না থাকায় মহানবী একটু চিন্তিত হলেন, ভাবলেন কি হলো বুড়িমার! তিনি আজ কেনো কাঁটা বিছালেন না! চিন্তা করতেই মহানবী ( সা.) বয়স্ক সেই মহিলার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখলেন মহিলা খুব অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন। তখন মহানবী (সা.) বৃদ্ধার সেবা–শুশ্রূষা করলেন। মহানবী (সা.)-এর এই আচরণে বৃদ্ধা নিজের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হলেন এবং মহানবী (সা.) এর মহানুভবতায় আপ্লুত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন। আলহামদুলিল্লাহ। আজ আমরা সেই বৃদ্ধার ঘর পরিদর্শন করলাম। বুড়ির বাড়ির পাথরের দেয়ালগুলো এখনো আছে। মহানবী (সা.) যে মসজিদটাতে নামাজ পড়তে যেতেন সে মসজিদটাও এখনো আছে। কতো আশ্চর্যজনক ঘটনা। সাড়ে চৌদ্দশো বছর আগের সেই ঘরগুলো কোনোরকমের সংস্কার ছাড়াই এখনো রয়ে গেছে! যে কাঁটাযুক্ত গাছগুলো বৃদ্ধা মহানবীর যাত্রা পথে বিছিয়ে দিতেন সে ধরনের গাছও এখানে প্রচুর আছে। কাঁটায় ভর্তি গাছগুলোতে শুধু কাঁটা আর কাঁটা। কোনো পাতা নেই। বৃদ্ধার বাড়ি পরিদর্শন শেষে আমরা গাড়ি করে চলে এলাম মিকাত মসজিদে। কারনুল মানাজিল বা তায়েফ মীকাত মসজিদ। মসজিদে এসে আমরা সবাই ইহরাম ধারণ করে নিয়ত করে ইহরামের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ে উমরাহর জন্যে প্রস্তুতি নিলাম। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ফিরে আসছিলাম সেই উঁচু পর্বত থেকে। সর্পিল রাস্তা এঁকেবেঁকে নেমে গেছে হাজার হাজার ফুট নিচে। নিচের দিকে নেমে আসার সময় ভয়ে আমার হাত–পা কাঁপে। পুরো পাহাড়ের সমস্ত রাস্তা জুড়ে লাইটা আর লাইট। ঝিকিমিকি লাইটের সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, তবু আমার ভয় করে। আমরা ইহরাম ধারণ করেছি। অনবরত দোয়া দরুদ পড়েই যাচ্ছি। ফ্লাইট টেক অফ কিংবা ল্যান্ডিং–এর সময় আমাদের মাঝে মাঝে যেমন ইয়ার লক হয়ে যায় তেমনি এতো উঁচু পাহাড় থেকে এতো বেশি গতিতে গাড়ি নিচে নামার সময়ও আমাদের তেমন অবস্থা হচ্ছিলো। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা খুব কম সময়ের মধ্যেই পাহাড়ের নিচে নেমে এলাম। আমার মনে সারাক্ষণ ভেসে আসছে তায়েফের সুন্দর সুন্দর স্মৃতি, মক্কার অদূরে তায়েফ শহরের এই সুন্দর বিকেলটা মনের মধ্যে গেঁথে গেলো। আল্লাহ যেনো আমাদেরকে এখানে বারে বারে আসার তৌফিক দেন। মক্কার অভিমুখে ছুটে চলেছে গাড়ি। পথে পথে চেক পয়েন্ট। প্রায় সাতবার চেক হলো আমাদের গাড়ি। সবার নুসুক কার্ড চেক করে স্ক্যান করে দেখে, তারপর ছাড় দেয় পুলিশ। এই চেকিং–এর কারণে আমাদের যাত্রাপথে সময় লেগেছে অনেক বেশি। সাধারণত দেড় ঘন্টায় পৌঁছে সব জায়গা জিয়ারত করে আবার দেড় ঘণ্টায় ফিরে আসা যায়। টোটাল পাঁচ ঘন্টার মতো সময় লাগে। কিন্তু আমাদের প্রায় সাত ঘন্টার বেশি সময় লেগেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাশেদ রউফ – এর অন্ত্যমিল
পরবর্তী নিবন্ধশরৎ উৎসবে মাতোয়ারা পুরো দেশ