কম শুল্কের পণ্য আমদানির ঘোষণায় কারসাজি করে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ উচ্চ শুল্কের পণ্য আনার একটি ঘটনা ধরা পড়েছে। কৃষিকাজের পাওয়ার স্প্রেয়ার, টুথপিক, হিট ট্রান্সফার পেপার ও স্টেইনলেস স্টিল সার্কেলের মতো পণ্যের ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে প্রসাধনী, অ্যান্টি–এজিং জেল, যৌন উত্তেজক স্প্রে, গাড়ির দামি যন্ত্রাংশ, বিয়ারিং, নাট–বল্টু ও পিভিসি ফ্লেঙ ব্যানার। ছয়টি চালানে এ ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কাস্টমস। এসব পণ্য আমদানির মাধ্যমে বড় অঙ্কের শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
কাস্টমস সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই কন্টেনারের সিল খুলে পণ্যগুলো শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করতে গিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা উদ্ঘাটন করেন। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকার ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেয়। কিন্তু কন্টেনার খুলে পাওয়া যায় ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, পিলিং জেল, সিরাম, এলইডি লাইট, সানগ্লাস ও কালো চুলের শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন পণ্য। ঘোষণার তুলনায় প্রায় এক হাজার ৮১৭ কেজি পণ্য বেশি ছিল। বাড়তি পণ্যগুলোর কোনোটিই আমদানি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ করপোরেশন চীন থেকে ২২ দশমিক ৫ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দিলেও পরীক্ষায় পাওয়া যায় মাত্র এক হাজার ৬২০ কেজি টুথপিক। বাকি অংশে ছিল পাকিস্তানের বিএসটিআই নিষিদ্ধ গোরি বিউটি ক্রিম, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি–এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, দামি সানগ্লাস ও যৌন উত্তেজক স্প্রে। এসব পণ্যের মধ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনীও রয়েছে বলেও সূত্র জানায়।
গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে। ঢাকার এইচ আর এন্টারপ্রাইজ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত রবার বুশ পাওয়া গেছে ছয় হাজার ৬২৫ কেজি। বাকি প্রায় ১৩ হাজার কেজির মধ্যে ছিল অরিজিনাল ইঞ্জিন মাউন্টিং, সাসপেনশন বুশ, আর্ম বুশ, সেন্টার বিয়ারিং, স্প্রিং শ্যাকল ও স্টিয়ারিংয়ের বিভিন্ন দামি যন্ত্রাংশ।
চীন থেকে হিট ট্রান্সফার পেপার আমদানির ঘোষণায়ও ধরা পড়ে জালিয়াতি। নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স ২৩ হাজার ৬১৮ কেজি হিট ট্রান্সফার পেপার আনার ঘোষণা দিলেও কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া যায় তিন হাজার ১৬০ কেজি। বাকি প্রায় ২১ হাজার ৪৬৭ কেজি পণ্যের মধ্যে ছিল ঘোষণাবহির্ভূত পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, যার শুল্কহার ঘোষিত পণ্যের তুলনায় বেশি।
অন্যদিকে, ওয়ারীর মোহাম্মাদীয়া ট্রেড ২২ টন স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল ও এঙক্যাভেটর গিয়ার আমদানির ঘোষণা দিলেও প্রকৃত পণ্য পাওয়া যায় মাত্র ৩ দশমিক ৮ টন। এর বিপরীতে ২২ টনের বেশি নাট, বল্টু ও স্ক্রু আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কাস্টমস।
বংশালের নিউ রনি এন্টারপ্রাইজের চালানেও ঘোষণা অনুযায়ী পণ্যের বদলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করেছে ১৭ হাজার ৫৯২ কেজি নাট–বল্টু, দুই হাজার ৭৮৭ কেজি ভারী রোলিং বিয়ারিং এবং দুই হাজার ৩৩৬ কেজি রিভলভিং চেয়ারের গ্যাস লিফট সিলিন্ডার।
কাস্টমস জানায়, এসব চালানে কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে বেশি শুল্কের পণ্য আমদানির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।












