যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, অভিযুক্ত স্বামীসহ চারজন গ্রেপ্তার

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১১ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী চন্দনা শীলকে (২২) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী শিমুল শীলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি–৭ ও সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের যৌথ দল। শুক্রবার রাতে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত চন্দনা শীল উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ–পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে।

এসআরবি জানিয়েছে, গত ৯ অক্টোবর সকালে সীতাকুণ্ডের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের টেরিয়াইল স্কুলের পেছনে মানু মিয়া চৌধুরীর বাড়ির পাশে জমির আইলে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার দুই হাত বুকের ওপর শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং গলায় প্যাঁচানো ছিল ওড়না। খবর পেয়ে পুলিশ অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি চন্দনা শীলের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরা এলাকার দিলীপ শীলের ছেলে শিমুল শীলের সঙ্গে চন্দনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা চন্দনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার কাছে চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

যৌতুকের চাপ সামলাতে চন্দনা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে যান এবং যৌতুকের টাকার জন্য কান্নাকাটি করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে আশ্বস্ত করে স্বামীর বাড়িতে পাঠান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন টেরিয়াইল বাজার এলাকায় চন্দনার সঙ্গে তার স্বামী ও অন্যদের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে টেরিয়াইল স্কুলের পেছনে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পরনের ওড়না দিয়ে দুই হাত বুকের ওপর বেঁধে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় চন্দনার বাবা তেজেন্দ্র দাশ বাদী হয়ে শুক্রবার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এসআরবি–৭ জানায়, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত এবং নজরদারি চালানো শুরু করে এসআরবি। পরে গোপন খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট এলাকায় কুমিরা হাইওয়ে থানার সামনে থেকে এজাহারের প্রধান আসামি শিমুল শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে টেরিয়াইল বাজারের লাকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে শিমুল শীলের ভাই পীযুষ শীল ওরফে প্রিতমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বড় কুমিরার দিলীপ শীলের পুত্র এবং চন্দনার স্বামী ও দেবর।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডের মান্দারীটোলা এলাকা থেকে স্থানীয় রুহুল আমিনের পুত্র নজরুল ইসলামকে এবং রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ফকিরহাট এলাকা থেকে ভাটিরখীল এলাকার আবদুর রফিক প্রকাশ মনা মিয়ার পুত্র মো. ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি–৭ এর সহকারী পরিচালক ও সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাতের আধারে রেললাইনের ক্লিপ চুরি
পরবর্তী নিবন্ধসাক্ষ্য শেষ করতেই সময় গেল ৬ হাজার দিন