কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেল কক্ষে কুলসুমা আক্তার (২২) নামের এক নারী হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. ইরফানকে (২৫) এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এপিবিএনের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইরফান কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প–৪ এর মৃত লেদু হোসেন ও জরিনা খাতুনের ছেলে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইরফান ও কুলসুমা স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে দুই বছরের একটি শিশুসহ ওই কক্ষে উঠেছিলেন। হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মমতাজ বেগম শিশুর কান্নার শব্দ শুনে কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় ওয়াশরুমে কুলসুমার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। কুলসুমা কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পূর্ব চান্দেরঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলমের মেয়ে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ঈদগাঁও চাক্কার দোকান এলাকার হারুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন কুলসুমা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই মামলার শুনানির তারিখ থাকায় তিনি ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার শহরে আসেন।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর ইরফানের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে অন্য এক যুবকের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ ছিলেন ইরফান। ঘটনার দিন হোটেলে দুজনের মধ্যে এই সংক্রান্ত কথা কাটাকাটিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরদিন ১ অক্টোবর ইরফানকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ইরফানকে আদালতে তোলার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যার কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।












