‘আমরা চাই পাহাড়ের শিশু ও সমতলের শিশুদের মধ্যে সুযোগের কোনো পার্থক্য না থাকুক।’ শিশু অধিকার দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনে পাহাড়ের শিশুদের এমন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছে খাগড়াছড়ির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবস্তী চাকমা।
গতকাল মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয় খাগড়াছড়ির শিশুরা। এ সময় খাগড়াছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রাবস্তী চাকমা ও দিব্য চাকমা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে।
শ্রাবস্তী বলে, ‘আজ আপনার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত ও গর্বিত।’ এরপর পাহাড়ের শিশুদের পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে সে বলে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা চাই পাহাড়ের শিশু ও সমতলের শিশুদের মধ্যে সুযোগের কোনো পার্থক্য না থাকুক। পড়াশোনার পাশাপাশি খাগড়াছড়ির শিশুরাও যেন গান, নাচ, সৃজনশীলতার কাজে অংশগ্রহণ নিতে পারে–এটা আমাদের প্রত্যাশা।’ শ্রাবস্তী খাগড়াছড়িতে একটি আধুনিক ও নিরাপদ শিশুপার্ক স্থাপনের দাবি জানায়। প্রধানমন্ত্রী দাবিটি বিবেচনা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
কথোপকথনে পাহাড়ের শিশুদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চার বিষয়টিও উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। এসব সংস্কৃতি চর্চা করা শিশুদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে ইতোমধ্যে তিনি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে উচ্ছ্বসিত শ্রাবস্তী তাকে ধন্যবাদ জানায়। সে প্রধানমন্ত্রীকে খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসার অনুরোধ জানায়।
এর আগে শিশু শিক্ষার্থী দিব্য চাকমাও পাহাড়ের শিশুদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরে। দিব্য বলে, পাহাড়ের কোলে সবুজ প্রকৃতির সুন্দর পরিবেশে তাদের বেড়ে ওঠা। তাদের অনেক স্বপ্ন আছে। তারা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে চায়। পাশাপাশি নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তিসহ নানা সৃজনশীল কাজে নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ করতে চায়। ভবিষ্যতে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে চায় তারা। দিব্যের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার কথা শুনে সাহস অনেক বেড়ে গেছে এবং তাকে ধন্যবাদ জানান।
শিশু অধিকার দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। দেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি। এ সময় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা, পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খাঁনসহ সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, শিল্পকলা একাডেমি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।












