বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পটিয়ার আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে হয়ে গেল শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের এক নান্দনিক ও ব্যতিক্রমী আয়োজনে ভিন্ন ধারার সম্মিলন। শিক্ষক ও ছাত্রদের এক অন্যরকম সম্মিলনে পরস্পরের মধ্যে সৃষ্টি হয় স্নেহ ও সম্মানের এক চমৎকার মেলবন্ধন।
এ দিবস কে স্মরণীয় করে রাখতে এবং শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে বিদ্যালয়কে রাঙিয়ে তুলেন বেলুন, রঙ বেরঙের ফিতা এবং ফুল দিয়ে। গতকাল সোমবার শতবর্ষী এ বিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণীর ১৮টি শাখায় পৃথক পৃথক প্রস্তুতিতে এ দিনটিকে নিয়ে যায় এক অন্য মাত্রায়। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ১৮টি সেকশনে শিক্ষকদের সম্মানে কাটা হয় কেক।
শিক্ষকররা প্রতিটি সেকশনে গিয়ে ছাত্রদের আতিথেয়েতা এবং ছাত্রদের মনোমুগ্ধকর আয়োজনে বিমোহিত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীরা একে একে শ্রদ্ধার সাথে শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন গোলাপ ফুলের স্টিক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.টি.এম. তোহার হাতে উপহার হিসেবে দেয়া হয়, ছাত্রের পেন্সিলে আঁকা প্রিয় শিক্ষকের ছবি। ছাত্ররা শিক্ষকদের হাতে হাতে তুলে দেয় নানারকম চকলেট, মুখে তুলে উৎসবের বর্ণিল কেক।
ছাত্রদের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের উৎসবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.টি.এম. তোহা, সহকারী প্রধান শিক্ষক পিযুষ কান্তি পাল, সিনিয়র শিক্ষক আবদুল মোতালেব, মাহবুবুর রহমান, নুরুল আবছার, সরোজিত দাশ, শাহনাজ বেগম, নুরুল আবছার, নিজাম উদ্দীন, শাহজাদী বিলকিস আকতারসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন। এ দিবস উপলক্ষে ছাত্ররা শিক্ষকদের নিয়ে কবিতা আবৃত্তি, ছড়া, গান সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আনন্দে মেতে উঠে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.টি.এম. তোহা বলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক ভিন্ন উৎসবের আয়োজন করে। এর মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রদ্ধা ভালোবাসা ও স্নেহের এক মেলবন্ধন তৈরী হয়। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে শিক্ষকদের কিভাবে সম্মান করবে। ক্লাসে কিভাবে মনোযোগী হবে বা পড়া লেখার মাধ্যমে তারা কিভাবে নিজেদের গড়ে তুলবে এসব বিষয়েও তাদেরকে উৎসাহ উদ্দীপনা দেয়া হয়। এ দিবসে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, পিতা–মাতার মতই শিক্ষকরা ছাত্রদের পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মত মানুষ হওয়ার পথ তৈরী করে দেন। তাই শিক্ষার্থীরা আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষদের সম্মানে এ আয়োজন করেছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ভিন্ন ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।












