
সম্প্রতি প্রকাশিত TIMES INTERVIEW–এ আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ স্যারের সাক্ষাৎকারটি যখন পড়ছিলাম, তখন শিক্ষক হিসেবে আমার হৃদয় এক অদ্ভুত আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর গভীর আবেগে ভরে উঠছিল। শুধু মুখে মুখেই বা কাগজে–কলমে স্বপ্ন দেখানো নয়, একটি পুরো তরুণ প্রজন্মকে বদলে দেওয়ার জন্য উনার যে অদম্য কর্মউদ্দীপনা, নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা আর তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে প্রতিদিন নিরলস ছোটাছুটি–এসব দেখে এই মানুষটার প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভক্তি আর ভালোবাসা যেন আরও হাজার গুণ বেড়ে গেছে! উনি যেভাবে প্রতিটি বিষয় নিজে তদারকি করছেন এবং বাস্তবায়নের জন্য অটল থেকে সচেষ্ট হচ্ছেন, তা একজন শিক্ষকের হৃদয়ে কতটা অনুপ্রেরণা জোগায়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই অকৃত্রিম আন্তরিকতা আর ভালোবাসার আবেগ থেকেই আজ আমার এই অনুভাবনা প্রকাশ করতে বসা।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত আমাদের এই সুবৃহৎ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আজ প্রায় ২,৩১৮টি অধিভুক্ত কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত–যা দেশের মোট উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশের বেশি। বিশাল এই পরিবারটিকে শুধু সনাতন সার্টিফিকেটমুখী না রেখে কর্মক্ষম, দক্ষ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভিসি স্যার যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ওমরগনি এমইএস কলেজের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক হিসেবে আমি তাঁর সেই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে গভীর আত্মিক একাত্মতা প্রকাশ করছি।
সত্যি কথা বলতে, বিগত কয়েক বছর ধরে ক্লাসরুমে গিয়ে অর্থনীতি পড়াতে গিয়ে আমাদের মতো শিক্ষকদের মনে এক ধরনের চাপা কষ্ট আর অসহায়ত্ব কাজ করত। ডিগ্রি আর অনার্স ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল আশঙ্কাজনকভাবে নগণ্য। ওদের অনেকের মধ্যেই পড়ালেখার প্রতি কেমন যেন একটা উদাসীনতা লক্ষ্য করতাম; যেন ডিগ্রি লাভ করাটা জীবনের কোনো একটা ‘পার্ট–টাইম’ বা অপ্রধান বিষয়! অনার্সে প্রতি বছর প্রায় ৭৬,০০০ আসন ফাঁকা থাকার বাস্তবতার পেছনে সরকারি কলেজগুলোতে ৯৮% ভর্তি হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু বেসরকারি কলেজে উপযুক্ত পরিবেশ ও মানের অভাব একটি বড় কারণ ছিল। উপরন্তু ৩০–৩৫ বছর ধরে চলা পুরনো সেকেলে কারিকুলাম দিয়ে আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টেকা অসম্ভব ছিল যেখানে দেশের ৮০% চাকরিই বেসরকারি খাতে আর গ্র্যাজুয়েটের ৮২–৮৩% আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের!
তবে আমাদের বর্তমান ভিসি স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর উনার বলিষ্ঠ ও কঠোর সংস্কারমূলক পদক্ষেপের গুণে সেই বিষণ্ণ চিত্রটা আজ ম্যাজিকের মতো পাল্টাতে শুরু করেছে! বিশেষ করে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৭৫% উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা, অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ‘পার্ট–টাইম টিচার পুল‘ গঠন করা এবং ইন–কোর্স পরীক্ষার উত্তরপত্র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানোর কঠোর তদারকি প্রবর্তন করায় এক নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। আমরা আমাদের ওমরগনি এমইএস কলেজেই এটি প্রতিদিন স্বচক্ষে দেখছি! আগে যেখানে সকালের ক্লাসে হাতে গোনা কয়েকজন মুখ দেখতে পেতাম, এখন সেখানে ক্লাসরুমগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া আনন্দময় উপস্থিতি! তারা গভীর মনোযোগ দিয়ে লেকচার শুনছে, নোট নিচ্ছে, প্রশ্ন করছে আর পড়াশোনাটাকে জীবনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিচ্ছে। যে শিক্ষার্থীরা আগে ইন–কোর্স পরীক্ষাকে হেলাফেলা করত, তারা এখন নিয়মিত প্রিপারেশন নিয়ে পরীক্ষায় বসছে।
এই ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি হাতেনাতে প্রমাণ আমি নিজে পেয়েছি সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ৩য় বর্ষের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ করতে গিয়ে। বিগত বছরগুলোর খাতা মূল্যায়নের দৈন্যদশার সাথে তুলনা করলে এবার স্পষ্টভাবে টের পেয়েছি যে শিক্ষার্থীদের উত্তর লেখার গুণগত মান ও চিন্তাভাবনার গভীরতা অনেক বেড়ে গেছে। অর্থনীতির মতো গাণিতিক ও বিশ্লেষণাত্মক বিষয়ে তারা আর বাজার থেকে কেনা অতিসংক্ষিপ্ত নোট বা গাইড বই মুখস্থ না করে বিষয়ের গভীরে গিয়ে চিত্র, ডেটা ও লজিক্যাল বিশ্লেষণের মাধ্যমে উত্তর সাজাচ্ছে। সঠিক লিডারশিপ আর ক্লাসরুমে তদারকি বাড়লে শিক্ষার্থীরা যে ফের পড়ার টেবিলে ফিরে আসে, একজন পরীক্ষক হিসেবে এটি আমি খাতা মূল্যায়ন করতেই গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি।
অর্থনীতির একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, কোনো দেশের আসল চালিকাশক্তিই হলো তার মানবসম্পদ (Human Capital)। আমাদের সুবিশাল এই শিক্ষার্থী সমাজকে যদি আমরা অলস বানিয়ে না রেখে কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে পারি, তবে জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা (Marginal Productivity) এক অবিশ্বাস্য মাত্রা যোগ করবে। ভিসি স্যার যে ‘প্যারাডাইম শিফট’ বা রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন, তার মূল ভিত্তি হলো ‘আউটকাম–বেসড এডুকেশন‘। ৫০টি বিষয়ের প্রায় ৪,০০০ কোর্সের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ কোর্সের সিলেবাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সাজানো হয়েছে। মুখস্থবিদ্যার বদলে প্র্যাকটিক্যাল ইংরেজি ও আইসিটি– সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসির মতো যুগোপযোগী প্রযুক্তিগত বিষয় যুক্ত হওয়ায় আমাদের মফস্বল ও গ্রামীণ শিক্ষার্থীরাও আজ আন্তর্জাতিক লেভেলের যোগ্য প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে ওঠার সাহস পাচ্ছে।
শিক্ষার সাথে বিশ্বমানের চাকরির বাজারের প্রত্যক্ষ সংযোগ ঘটাতে স্যার ইতোমধ্যে দেশি–বিদেশি ১৫০টিরও বেশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিশ্চিত করেছেন। ঢাকার নামীদামী ফাইভ স্টার হোটেল চেইন (যেমন ঢাকা শেরাটন, দ্য ওয়েস্টিন) থেকে শুরু করে ব্র্যাক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের সাথে ক্রেডিট ট্রান্সফার, স্কিল শেয়ারিং ও যৌথ গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে–যেখান থেকে অচিরেই যৌথ উদ্যোগে ‘মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ‘- এর মতো প্রোগ্রাম চালু হতে যাচ্ছে। আর অর্থাভাবে বা জটিলতায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কাজের উপযোগী করতে ১০–১২ ক্রেডিটের বিশেষ ৩ মাস মেয়াদী মাইক্রো–লার্নিং কোর্স চালু করা হচ্ছে, যা তাদের কাজ পাওয়ার হার ৯৭.৫ শতাংশে উন্নীত করবে। এমনকি পিজিডি ও ডিপ্লোমা চালুর জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ইনস্টিটিউট অব স্কিলস বেসড এডুকেশন‘।
একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থীদের আর্থ–সামাজিক সক্ষমতা বাড়াতে ৫০,০০০ নারীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইন মার্কেটিং, ডিজিটাল স্কিলস ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ঘরে বসেই গিগ ইকোনমিতে স্বাবলম্বী হতে পারে। আর ‘শি স্কিলস’ প্রজেক্টের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে জব ও ইন্টার্নশিপ সেন্টার খোলার উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের জীবনের গল্পই বদলে দেবে।
একটি বিশেষ ব্যক্তিগত অনুভূতি ও মধুর অভিজ্ঞতার কথা না বললে এই লেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে–সম্প্রতি চলতি মাসের ২২ তারিখে চট্টগ্রাম ওমরগনি এমইএস কলেজের প্রতিনিধি হয়ে আমি ঢাকায় গিয়ে সরাসরি আমাদের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ স্যারের সাথে মুখোমুখি সাক্ষাৎ করার এক দুর্লভ ও সৌভাগ্যময় সুযোগ পাই। আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক যোগ্যতায় উন্নীত করতে একটি ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কোর্স‘ চালুর আবেদনপত্র নিয়ে স্যারের সাথে যখন কথা বলছিলাম, উনার কথা ও চিন্তা শুনে আমি স্রেফ মুগ্ধ ও আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম!
কথা প্রসঙ্গে স্যার কত গভীরতা নিয়ে আমাকে বোঝালেন যে, আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলা বা প্রাতিষ্ঠানিক ইংরেজিতে পারদর্শী হলেও বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মারাত্মক কমিউনিকেশন গ্যাপের মুখে পড়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, যুক্তরাজ্য বা আমেরিকার মতো দেশে আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী মেধা থাকা সত্ত্েবও শুধু যোগাযোগের ভাষার অভাবে ভালো মানের উচ্চমানের কাজ থেকে বঞ্চিত হয়। এই সংকট দূর করতে উনি বহুভাষিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালুর মাধ্যমে ইংরেজি, মান্দারিন (চীনা), জাপানি, আরবি ও ফরাসি ভাষা শেখানোর বৈপ্লবিক উদ্যোগ নিয়েছেন। স্যারের এই দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় আমাদের চট্টগ্রাম ওমরগনি এমইএস কলেজে আমরা অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে খুব শীঘ্রই এই তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কোর্সটি চালু করতে যাচ্ছি ভেবে একজন শিক্ষক হিসেবে আমি অন্তরের শেষ বিন্দু দিয়ে গর্ববোধ করি!
ভিসি স্যার শুধু ক্লাসরুমের পড়ালেখা আর চাকরির সুযোগ তৈরি করেই থেমে থাকেননি; আমাদের নতুন প্রজন্মের মননশীল বিকাশ, নীতিশিক্ষা ও শারীরিক সুস্থতার জন্য সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা এবং সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছেন। আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, জাতীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক উৎসব, বিতর্ক ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতার উদ্যোগ তরুণদের মাদক, হতাশা ও নেতিবাচক পথ থেকে ফিরিয়ে এনে চমৎকার মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলছে। একই সাথে দীর্ঘদিনের অভিশাপ সেশনজট দূর করতে ২০২৭ সালের মধ্যে শতভাগ সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার এবং মাত্র ৪২ থেকে ৫০ কর্মদিবসে ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্সের নিখুঁত ফলাফল প্রকাশের যে রেকর্ড গতি এনেছেন, তা হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করছে। বিশ্ববিখ্যাত Oxford AQA এবং Edexcel–এর মানদণ্ডে খাতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দলীয় বা সংঘাতের রাজনীতি এড়িয়ে শিক্ষক–শিক্ষার্থীর পবিত্র সম্পর্ককে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার সুনির্দিষ্ট অবস্থান এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় স্থান দিচ্ছে।
চট্টগ্রাম ওমরগনি এমইএস কলেজের শ্রেণীকক্ষে দাঁড়িয়ে যখন আমার শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল চোখের দিকে তাকাই, তখন স্যারের এই নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা আর উদ্ভাবনী ভাবনার সুফলগুলো হাতেনাতে টের পাই। ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ স্যারের মতো একজন দূরদর্শী, প্রজ্ঞাবান ও প্রাণবন্ত ভিসি স্যারের এই অসামান্য কর্মতৎপরতা আর নিষ্ঠা দেখে তাঁর প্রতি আমার অন্তরস্থল থেকে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও শুভকামনা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। তাঁর এই সাহসী নেতৃত্ব আমাদের মতো হাজারও শিক্ষককে প্রতিদিন নতুন শক্তিতে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। আমি নিশ্চিত, আমানুল্লাহ স্যারের গতিশীল নেতৃত্বে আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আর কেবল স্রেফ কাগজের সনদ বিতরণের প্রতিষ্ঠান থাকবে না–বরং এটি বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো দক্ষ, কর্মক্ষম, স্বাবলম্বী ও মানবিক নাগরিক গড়ার এক অনন্য জাতীয় দুর্গে পরিণত হবে।
লেখক : শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, ওমরগনি এমইএস কলেজ, চট্টগ্রাম











