ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী

শিয়া মিলিশিয়া ও আইএসের পুনরুত্থানের শঙ্কা

| বৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ইরাকের শেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও নিজেদের সমস্ত সৈন্য চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী। সাড়ে চার হাজার আমেরিকান সৈন্যের প্রাণহানির পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের সমাপ্তিকে নিজেদের রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে উদযাপন করছে তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা।

তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে দেশটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের প্রভাব আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি কট্টরপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নতুন করে সংগঠিত হওয়ার পথ সুগম হতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের। খবর বিডিনিউজের।

২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই চুক্তি হলেও ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক লড়াই জারি রাখার মধ্যেই চূড়ান্তভাবে এই বিদায় সম্পন্ন করছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলায় তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনের পতনের ২৩ বছর পর সম্পূর্ণ হচ্ছে এই সেনা প্রত্যাহার। সাদ্দামের পতনের পর কয়েক বছরের সহিংসতা ও গৃহযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে উদয় হয়েছিল জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের।

প্রতিবেশী দেশ থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের দিনটিতে ইরানের ইসলামি রিভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন কংগ্রেসে ট্রাম্পের সহযোগীদের ভোট না দেয়। মার্কিন বাহিনীর প্রস্থানের ইরাকের সাধারণ মানুষের সমর্থন থাকলেও অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আমেরিকার প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নে পরিচালিত ইরাকি বাহিনী এখনো এককভাবে পুরো দেশের সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত নয়।

ইরাকি নিরাপত্তা উপদেষ্টা জসিম আল–বাহাদলি বলেন, গত দুই দশকের শিক্ষা হলো, নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

২০০৩ সালে আগ্রাসনের পর ইরাক দখল করে শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার বসায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমে সাদ্দাম সমর্থক ও পরবর্তীতে আল কায়েদার সশস্ত্র বিদ্রোহ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত হয় দেশটি। পরবর্তীতে ২০১১ সালের শেষে প্রথম দফায় সেনা প্রত্যাহার করে ওয়াশিংটন। তিন বছরের কম সময়ের মধ্যে সুন্নি মিলিশিয়া গোষ্ঠী আইএসের উত্থান ঘটলে তাদের দমনে ২০১৪ সালে আবারও ইরাকে সেনা পাঠায় মার্কিন প্রশাসন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আইএসকে পরাজিত করা হয়।

পুরো পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী হটিয়ে দেওয়াকে নিজেদের মূল লক্ষ্য দাবি করা ইরান এই সেনা প্রত্যাহারকে তাদের ‘প্রতিরোধের অক্ষের’ বড় জয় হিসেবে দেখছে। মার্কিন সহায়তার অনুপস্থিতিতে আইএস নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তারা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহারা আল মনসুরি
পরবর্তী নিবন্ধআসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার সামনে আজ বাংলাদেশ