জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক সফর বিশ্বে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা উজ্জ্বল করেছে বলে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। গতকাল বুধবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত একটি সরকারের প্রধান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এটা গণতন্ত্রের একটা বিশাল বলিষ্ঠ পদচারণা ছিল এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে তিনি অটুট রেখেছেন, সবচাইতে বেশি সুরক্ষা দিয়েছেন এবং বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মাধ্যমে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন প্রতিটি দেশের সাথে আমরা অংশীদারত্ব চাই, বিনিয়োগ চাই, বাণিজ্য চাই, যার মাধ্যমে আমরা স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে পারব, স্বাবলম্বীতা নিশ্চিত করতে পারব। প্রতিটি মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারব ইনশাআল্লাহ। বৈশ্বিক কূটনীতিতে এটি আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একটা দৃঢ় প্রত্যয় এবং বিশ্বাস করি সমতা ও ন্যায় বিচারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটা ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের হাত ধরে শুধু বাংলাদেশের ভেতরে না বিশ্বে শান্তি এবং সমৃদ্ধি রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটা বড় ভূমিকা পালন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি বিশ্বসভায় (জাতিসংঘে) বাংলাদেশ কীভাবে আত্মবিশ্বাসী ছিল। আমাদের যে আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মপরিচয় প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করে দিয়েছেন তার প্রতিটি পরতে পরতে ছিল বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা।
এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, এটা স্পষ্ট যে উনি (তারেক রহমান) বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন এবং যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির আলোকে আজকে রাষ্ট্র পরিচালনা বিএনপি করছে কীভাবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে? সমস্যার সমাধান হবে স্বনির্ভর, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে? জনকল্যাণমূলক এবং মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা হবে সেটার জন্য উনি দেশের অভ্যন্তরীণ সকল পরিকল্পনা প্রোগ্রাম এবং পলিসিস তুলে ধরেছেন। একই সাথে একটি গণতান্ত্রিক শান্তিকামী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে সেটিও সুস্পষ্ট রূপরেখা তিনি দিয়েছেন।
জাইমাকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অফিসে তো উনার (জায়মা রহমান) চাকরি হয়নি। উনার চাকরিটা হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে বাংলাদেশের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জাতিসংঘের রুলস, রেগুলেশনস এবং প্রসিজিউর অনুযায়ী যে এঙিকিউটিভ অফিস রয়েছে, তার আন্ডারে যে হিউম্যান রিসোর্স টিম রয়েছে, উনারাই সব ধরনের রিক্রুটমেন্ট এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। যে কেউ চাইলে জাতিসংঘে সেটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এখানে উনার (জায়মা রহমান) অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রসিজিউর, ফাইনান্সিয়াল বেনিফিট সবকিছু জাতিসংঘ করবে। এর সাথে সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উনার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান এই চার দিন যথেষ্ট ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তিনি আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনটিতে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের উইমেন লিডার্সের যে প্ল্যাটফর্ম সেখানে তিনি গিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া নারী নেতৃবৃন্দের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বাংলাদেশের প্রত্যাশা তিনি তুলে ধরেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবার যে বক্তব্য দিয়েছেন এটি শুধু একটি রুটিন বক্তব্য ছিল না বরং উনার বক্তব্যের প্রত্যেকটা কথা সেটি তিনি বিশ্ব মঞ্চে ছড়িয়ে দিয়েছেন, বিশ্ব পরিসরে ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রত্যেকটা বিশ্বের যারা যারা জাতিসংঘের প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রত্যেকের কাছেই সে বক্তব্যটা গেছে। এটাই আমরা মনে করি একটি বড় অর্জন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এই সফরকে কেন্দ্র করে শুরুতে আমরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেব প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে। তখন দেখা গেল বাংলাদেশে কিছু ঘটনা আমি বলব, ঘটনা ঘটানো হলো, ঘটেছে বলব না। এমনভাবে ঘটনা হলো, যাতে আমরা একটা জায়গায় যাচ্ছি যে, এই নিউজতো প্রাধান্য পাবে। সেটা যাতে প্রাধান্য না পায়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক ও শাহরিয়ার পামির উপস্থিত ছিলেন।












