নগরীর রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠার পর দুই চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বার এখন মেলা করবে। মেট্রোপলিটন চেম্বার পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে মেলা করবে বলে সমঝোতা হয়েছে।
এর আগে গতকাল শনিবার মেলার প্রস্তুতি কাজ চলাকালে একদল লোক মাঠে ঢুকে নির্মাণসামগ্রী ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুজনকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেছে মেলা আয়োজক চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সময় তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের অভিযোগ, হামলাকারীরা মেলার প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় মেলার প্রস্তুতির জন্য আনা বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান ও ফোরকানকে মারধর এবং তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহসভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাথে আমাদের সমঝোতা হয়েছে। আমরা কথা বলে ঠিক করেছি, এখন চট্টগ্রাম চেম্বার মেলা করবে, আমরা পরবর্তীতে করব। সম্ভবত মার্চের দিকে মেট্রোপলিটন চেম্বার মেলা করার চেষ্টা করবে। বিষয়টি নিয়ে আর কোনো অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ নেই।
পলোগ্রাউন্ড মাঠে একই সময়ে দুই চেম্বারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার আগামী ১ নভেম্বর থেকে মাসব্যাপী বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর মধ্যে গতকাল হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম চেম্বারও পলোগ্রাউন্ডে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে তারা পলোগ্রাউন্ডে ৩১টি আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের মেলার জন্যও রেলওয়ের কাছে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। দুই চেম্বারের পক্ষ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মেলা আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দুই চেম্বারের সমঝোতা হওয়ায় নভেম্বরে চট্টগ্রাম চেম্বার এবং পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার মেলা করবে।










