অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের উপকণ্ঠে একটি শিল্পকলা কেন্দ্রে ক্যানভাস ও তুলি হাতে জড়ো হয় একদল ফিলিস্তিনি শিশু। ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান আর ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতার মানসিক ট্রমা কাটাতে সেখানে তাদের মূল হাতিয়ার রকমারি রং আর ছবি আঁকা। চিত্রশিল্পী সারাহ আবু মাদি ২০২০ সালে নিজের বসতভিটাতেই গড়ে তোলেন এই আর্ট সেন্টার। স্থানীয় আরবি ভাষায় যার নাম দেওয়া হয় ‘রোমানা’ –যার অর্থ ডালিম বা আনার। শিশুদের মনের ভেতর জমে থাকা ভয়, ক্ষোভ আর ট্রমা প্রকাশ করার একটি মুক্ত পরিবেশ দিতেই কেন্দ্রটি চালু করেছিলেন। খবর বিডিনিউজের।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের ওপর চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় এই কেন্দ্রের কার্যক্রম আরও জরুরি হয়ে পড়েছে। সারা আবু মাদি বলেন, কোনও বসতি স্থাপনকারী বা সেনাসদস্য কিছু করলে আমরা শিশুদের কাছে জানতে চাই, ঘটনাটি তোমার কেমন লেগেছে? এতে তোমার মনে কী ভাবনা এসেছে? কীভাবে এটি তোমাকে প্রভাবিত করছে? আর কারও ঘরে সেনা অভিযান চালানো হলে আমরা জিজ্ঞেস করি, তখন তোমার কেমন অনুভূতি হয়েছিল? তুমি কী ভাবছিলে? কীভাবে এটি তোমাকে প্রভাবিত করল? আর তোমার নিজের চাওয়া বা ইচ্ছাটাই বা কী?
চলতি সপ্তাহে শিশুদের পছন্দের বিষয় আঁকতে বলা হলে ১০ বছর বয়সী তালিয়া সাবাহ খাঁচা ছেড়ে আকাশে ডানা মেলা এক পাখির ছবি আঁকে। নিজের আঁকা ছবি দেখিয়ে সে বলে, আমি মনে করি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘মুক্তি’। আমি চাই আমাদের জীবন থেকে ইসরায়েলি সেনারা চিরতরে চলে যাক, আমরা যেন স্বাধীনভাবে যা খুশি তা করার অধিকার পাই।
হেবরনের ওয়াদি আল–সামেন মহল্লায় অবস্থিত রোমানা স্টুডিওটি মূল শহর থেকে বেশ বিচ্ছিন্ন। অন্তত ছয়টি সামরিক চৌকি পেরিয়ে সেখানে ঢুকতে হয়। ছোট বয়স থেকেই যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখা ১১ বছর বয়সী কারাম সাবাহ জানায়, আমার নানার পাহাড়ে জমি ছিল। কিন্তু ইহুদিরা সেখানে অবৈধ বসতি বানিয়ে তা দখল করে নিয়েছে। এখন আমাদের কেউ পাহাড়ের দিকে গেলেই গ্রেপ্তার করা হয়।













