সাইকেলে ৩৮ দিনে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে

কাপ্তাইয়ের বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই | বৃহস্পতিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

সাইকেলে চড়ে ৩৮ দিনে নেপালের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছেন কাপ্তাই উপজেলার তরুণ বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। উপজেলার ৫ নং ওয়াগ্‌গা ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর কুমার ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা হয়ে সাইকেলে চড়ে প্রথমবারের মতো বেস ক্যাম্পে পৌঁছার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১৬ আগস্ট কক্সবাজারের কবিতা চত্বর সাগরপাড় থেকে। যাত্রা শুরুর পর তিনি সাইকেলে চড়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাবান্ধা সীমান্ত হয়ে প্রথমে ভারত প্রবেশ করেন। সেখান থেকে শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে পৌঁছান। সেখান থেকে সাইকেলে চড়ে হিমালয়ের দুর্গম পথে যাত্রা করেন। দীর্ঘ এ যাত্রায় অনেক দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল আবহাওয়া ও নানা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। কখনো প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি, কখনো দুর্গম ও উঁচু পাহাড়ি পথে সাইকেল চালিয়ে এগিয়ে গেছেন তিনি। চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর আগে কয়েকদিনের ব্যবধানে হিমালয়ের তিনটি দুর্গম চূড়া ও গিরিপথ অতিক্রম করেন তিনি।

১৮ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৮৩ মিটার উচ্চতার নাংকার্তশাং পিক সামিট করেন বীর কুমার। ১৯ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৩৫০ মিটার উচ্চতার ছুকুং রি পিক সামিট করেন। ২১ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৫৩৫ মিটার উচ্চতার কংমা লা পাস অতিক্রম করেন। পরদিন তার গন্তব্য ছিল এভারেস্ট বেস ক্যাম্প।

বীর কুমার তঞ্চঙ্গাা জানিয়েছেন, ৩৮ দিনের এই যাত্রার লক্ষ্য শুধু হিমালয়ের দুর্গম পথ জয় করা ছিল না। পাশাপাশি রক্তদান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সচেতনতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরাও ছিল তার এই যাত্রার উদ্দেশ্য। তিনি জানান, এই যাত্রায় প্রতিটি ধাপে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। দীর্ঘ পথ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, দুর্গম পাহাড়ি ট্রেইল এবং শারীরিক ও মানসিক চাপ সামলে তাকে সামনে এগোতে হয়েছে।

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, এই অর্জন তার একার নয়। দীর্ঘ যাত্রায় যারা সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাইকেলে চড়ে আরো অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়ার ইচ্ছা তার।

প্রসঙ্গত, বীর কুমার এর আগে সাইকেলে চড়ে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সাইকেলে পাড়ি দিয়েছিলেন। এছাড়া ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। অনেক সামাজিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত বীর কুমার কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্‌গা ইউনিয়নের ব্লাড ব্যাংক ও ওয়াগ্‌গা ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএমপি সরোয়ার আলমগীরকে চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন অব কানাডার সংবর্ধনা
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ মিয়ানমারের এলএনজিসহ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে