রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী-এমপিদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলে বাধা দেব : শফিকুর

| বৃহস্পতিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্যদের বেতনভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে তাতে বাধা দেবেন বলেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আজকে দেখলাম যে, পেস্কেলে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের বেতন বাড়ার সাথে সাথে কোনো কোনো মহল চিন্তা করছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করার জন্য। আমি মনে করি যে এটা অসঙ্গত, অন্যায় সিদ্ধান্ত হবে। বিরোধী দল হিসেবে আমরা এটা চাই না। আমি জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্ব নিয়ে বলতেছি, আমরা এটা চাই না। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন শফিকুর রহমান। খবর বিডিনিউজের।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা সেখানে (সংসদ) টাকা রুজি করতে যাইনি, বেতনের বিনিময়ে আমরা সংসদ সদস্যগিরি করতে চাইনি, আমরা গিয়েছি জনগণের প্রয়োজনে। যদি ১৮ কোটি মানুষের এরকম পরিবর্তন হয় আর্থিক অবস্থার, আমাদের আপত্তি নাই; সেইদিন আমরা সবার সাথে অংশীদার হতে পারি, কিন্তু নট বিফোর।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, যদি সরকার এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়, আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করব, বাধা দেব। আমি আহ্বান জানাব, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ যেন নেওয়া না হয়। গোটা সমাজ একটা সংকটের মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে, আর আমরা সংসদ সদস্যরা আমাদের সুযোগসুবিধা বাড়াবএটা প্রশ্নই উঠে না।

এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এদিকে যেন কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হয়; নিলে আমরা বিরোধিতা করব, সুস্পষ্ট বিরোধিতা। নানা বিষয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি একটু রেস্টে আছি। ওনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছ থেকে নেন, ওনার কথাগুলোও তো জাতির শোনা দরকার। আমাদেরটাও শোনা দরকার। ওনার ভাবনা শোনা দরকার আমার চেয়ে আগে, কারণ এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব ওনার উপর। আপনারা ওনারটাও নেবেন, আমারটাও নেবেন ইনশাআল্লাহ।

সাংবাদিকদের বেতনভাতার সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা করার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে এগুলো বলেছি, আরও বলব। সংসদের বাইরেও বলব, কোনো অসুবিধা নেই। এই ফোর্থ পিলারটা যদি ভালো থাকে, শক্তিশালী থাকে, দেশটা ভালো থাকবে রে ভাই। এই পিলারটা ভালো না থাকলে দেশের সবকিছু খারাপ হয়ে যাবে। তখন খারাপ কাজ যারা করে, এদের দেখার মত, এদের ব্যাপারে বলার মত কেউ থাকছে না।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সবকিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। সমাজে এর সর্বগ্রাসী প্রভাব রয়েছে। জনস্বার্থবিরোধী বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলছি, আপনারাও বলেন; সবাই মিলে বলি। তার ভাষ্য, সরকার যদি আমাদের কথা না শোনে তাহলে আন্দোলন চলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে এর ফায়সালা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক নয়
পরবর্তী নিবন্ধউচ্ছেদের একদিনের মাথায় ফের বেদখল সড়ক বিভাগের সাড়ে ৩ কোটি টাকার জায়গা!