বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গত দুই আসর ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক মালিক আবদুল কাইয়ুম রাশেদ ও সাবেক অপারেশন ম্যানেজার আমিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সাবেক দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের অভিযোগের ব্যাপারে ব্যাখা দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানিয়েছে বিসিবি। বিপিএলের একাদশ ও দ্বাদশ আসরকে কেন্দ্র করে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) তদন্তে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। তদন্তের ভিত্তিতে দুই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইসিসির ২০২৪ সালের অ্যান্টি–করাপশন কোডের একাধিক ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ম্যাচের ফল বা অগ্রগতিতে অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার, দুর্নীতির প্রস্তাব বা সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো। দ্বাদশ আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক ছিলেন আবদুল কাইয়ুম রাশেদ। তার বিরুদ্ধে চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাচের ফল, অগ্রগতি বা অন্য কোনো দিক অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা। এ ছাড়া দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা অ্যান্টি–করাপশন কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হওয়া, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নিজের প্রধান মোবাইল ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে আমিন খান বিপিএলের একাদশ আসরে দুর্বার রাজশাহী এবং দ্বাদশ আসরে চট্টগ্রামের অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধেও চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাচের ফল বা অগ্রগতিতে অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার এবং কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে উৎসাহিত বা সহায়তা করার অভিযোগ। তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বা তথ্য গোপন কিংবা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আমিন খানের বিরুদ্ধে। বিসিবি জানিয়েছে, অভিযোগের আওতায় থাকা দুই ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে হবে। এরপর আইসিসির অ্যান্টি–করাপশন কোড অনুযায়ী চলবে পরবর্তী শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া। তবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।













