সাইবার প্রতারণার অভিযোগে নগরীর খুলশীর একটি ভবন থেকে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে ২ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলাম তাদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর নগরীর খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি ৮ তলা ভবনে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যাক বিদেশি গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন ও ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক ছিলেন। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।
আদালতসূত্র জানায়, এ ঘটনার আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর একই থানাধীন দক্ষিণ খুলশীর ২ নং রোডের বিশ্রাম ভবনের স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার লিঃ এ একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। ওই অভিযানে কুরিয়ার অফিসটি থেকে ১১৮ গ্রাম ওজনের একটি কোকেনের চালান উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি কুরিয়ারটিতে কর্মরত সহকারী ম্যানেজার রিয়াদুল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রিয়াদুলসহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। অপরজন হলেন– মো. আলমগীর। মামলার এজাহারে বলা হয়, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ইলেকট্রনিঙ পণ্য সিপিউ কুলারের আড়ালে মো. আলমগীর নামের ওই ব্যক্তির রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ খান থানা এলাকার ঠিকানায় উদ্ধারকৃত কোকেনের চালানটি পাঠাচ্ছিলেন। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জেনে যায় পুলিশ। এরপর কুরিয়ার সার্ভিস অফিসটিতে অভিযান চালানো হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রিয়াদুল পরিচয় গোপন রেখে কোকেনের চালানের বুকিং নিয়েছে। চালানের প্রেরক বিষয়ে তিনি কোন তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালতসূত্র জানায়, কোকেন চোরাচালানের এ ঘটনা তদন্ত করতে গিয়েই ৬৩ বিদেশির সাইবার অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি উঠে আসে এবং অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন তথা ১১ সেপ্টেম্বর খুলশী থানা এলাকা থেকে এস এম মহসিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বলা হচ্ছে– কোকেন চোরাচালানের ঘটনার পাশাপাশি ৬৩ বিদেশি কর্তৃক সাইবার অপরাধ সংঘটন কাজেও এই এস এম মহসিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ৬৩ বিদেশিকে যে ভবনটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটি মহসিনই ভাড়া করে দিয়েছিলেন। তাদের পাসপোর্টও তার কাছে রয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলার এ বাসিন্দা কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বলে জানা গেছে। আদালতসূত্র জানায়, গতকাল ৬৩ বিদেশির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এস এম মহসিনকে গ্রেপ্তার দেখানোরও (শ্যোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতেই এ আদেশটি দেওয়া হয়। এছাড়া কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার রিয়াদুল আহম্মেদ ও এস এম মহসিনকে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
গত রোববার খুলশী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের দু’জনের ৫ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালতের নথিপত্রে বলা হয়, এস এম মহসিন গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির বসবাসরত ভবনটি ভাড়াসহ তাদেরকে অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন সাইটে/ডিজিটাল ফ্লাটফর্মে বিভিন্ন ধরণের প্রতারণামূলক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করে আসছিল। সাইবার প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য মহসিন একই সাথে একজন মাদক ব্যবসায়ীও।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় ৬৩ বিদেশিকে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য আইনের মামলায় রিয়াদুল আহম্মেদ ও এস এম মহসিনের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। পাশাপাশি এই এস এম মহসিনকে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলাতে গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন বিচারক।











