ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুতদের সঙ্গে জামায়াতপন্থি একদল গ্রাহক মারামারিতে জড়িয়েছেন, যাতে ২০–২৫ জনের মত আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার পর ঢাকার দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী দুপুর পৌনে ১টায় বলেন, চাকুরিচ্যুত আর গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা হাতাহাতি হয়। পরে গ্রাহকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এসে অবস্থান নেয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। কয়েকজন আহত হয়েছে। খবর বিডিনিউজের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে এদিন সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে পশ্চিম দিকে অবস্থান নেন চাকরিচ্যুতরা। আর সড়কের অপর পাশে অবস্থান নেন তাদের বিরোধী জামায়াতপন্থি একদল গ্রাহক, যারা ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে গত মে মাস থেকে ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনে সরব রয়েছেন। পুলিশের উপস্থিতিতেই একপর্যায়ে দুই পক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়ায়, যা পরে মারামারিতে রূপ নেয়। পরে চাকরিচ্যুতরা সেখান থেকে সরে যান, আর ওই গ্রাহকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন।
চাকরিচ্যুতদের একজন শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা চাকরি ফেরত চেয়ে আন্দোলন করছি। আমাদেরকে এস আলমের দালাল বলা হচ্ছে, আমরা কারো দালাল না। আমাদের উপর অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। আমাদেরকে ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থাকতে দিচ্ছে না।
অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের পূর্ব নির্ধারিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অবৈধ নিয়োগে চাকরিচ্যুত এস আলমের দোসররা হামলা চালায়।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ আছে। পুলিশের সামনে থেকে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলেও পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখেনি। বরং পুলিশ পক্ষপাতিত্বের পরিচয় দিয়েছে।
এর আগে রোববারও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা। পরে সেখানে ছুটে আসেন জামায়াতপন্থি গ্রাহকদের প্লাটফর্ম ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’র সদস্যরা। দুই পক্ষ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিলেও উত্তেজনা তৈরি হয়। তাদের মাঝে অবস্থান নিয়েছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে দুই পক্ষই নিজেদের দাবি–দাওয়া সংবলিত স্মারকলিপি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাছে দিয়ে চলে যায়।











