কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে মৎস্যঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে প্রায় ৫ একর জায়গায় নতুন বাঁধ নির্মাণের কাজ চলায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়া করিমদাদ মিয়া ঘাটসংলগ্ন উজানটিয়া চ্যানেল এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়া পাড়ার জনৈক শফি কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় মৎস্যঘের সম্প্রসারণের কাজ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় প্রায় ৩ একর উপকূলীয় প্যারাবন কেটে মৎস্যঘের নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে স্কেভেটর দিয়ে প্রায় ৫ একর জায়গার মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্যারাবন উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে। ঝড়–জলোচ্ছ্বাসের সময় ঢেউয়ের শক্তি কমানো, উপকূলীয় ভূমি ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর প্রজননক্ষেত্র তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে নির্বিচারে প্যারাবন কেটে মৎস্যঘের সম্প্রসারণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও উপকূলীয় জনপদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। অভিযোগের বিষয়ে মগনামা বিট কর্মকর্তা হোসেন তওফিক বলেন, বিষয়টি জানার পরপর বিট কার্যালয় থেকে লোক পাঠানো হয়েছে। মাটি কাটা বন্ধ এবং স্কেভেটর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্যারাবন কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শফি। তিনি বলেন, প্যারাবন আগে থেকেই কাটা ছিল। সেখানে আগে থেকেই একটি মৎস্যঘের ছিল। ঘেরের বাঁধে পানি ঢুকে যাওয়ায় স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ মেরামত করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, শফি একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন মৎস্যঘের ইজারা নিয়েছেন। ইজারা নেওয়ার পর বাঁধে ছিদ্র হয়ে পানি বের হয়ে যাওয়ার অজুহাতে পাশের আরও কিছু জায়গা দখলে নিয়ে নতুন বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীর জায়গা দখল করে প্যারাবন কেটে মৎস্যঘের নির্মাণ কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












