বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানিকে সহজে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা হবে

চিটাগাং চেম্বারে ক্যাপিটাল মার্কেট বিষয়ে সংলাপে বিএসইসি চেয়ারম্যান পুঁজিবাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে : চেম্বার সভাপতি

| রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনবিএসইসি’র চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, ব্যবসায়ীরা সাধারণত ব্যবসা শুরু, সম্প্রসারণ, পুনর্গঠন ও পরিচালনার জন্য মানি মার্কেট এবং পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। ঝুঁকিমুক্তভাবে ব্যবসার স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে মূলধন আহরণ শ্রেয়। কিন্তু বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে মানি মার্কেট বা অর্থলগ্নি খাত থেকে টাকা সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা। এজন্য পুঁজিবাজারে যেমন কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আসে না তেমনি ব্যবসার টেকসই প্রসার ঘটে না। পুঁজিবাজারে যাতে বড় বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলো সহজে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে সেজন্য সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলাপ আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

গতকাল শনিবার বিকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লি. এর যৌথ উদ্যোগে ক্যাপিটাল মার্কেট : গ্রোথ ডায়ালগপাথওয়ে টু লিস্টিং শীর্ষক এক সংলাপে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান মাসুদ খান প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ঋণখেলাপী হওয়া থেকে নিষ্কৃতি, যেকোনো সময় ডাইরেক্টরশিপ ছেড়ে দেওয়া, কর্পোরেট ট্যাক্স হারে ছাড়, ব্যবসায়ীদের লোকসানের ঝুঁকি হ্রাস এবং সহজে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার মত অনেক ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। তাছাড়া কোম্পানির কৌশলগত বিনিয়োগ বা বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ সহজতর হয়।

চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ব্যবসায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে লাভ করতে না পারলেও ডিভিডেন্ড দিতে হয়। এ ধরনের নিয়মের কারণে অনেকেই তালিকাভুক্ত হতে চায় না। আবার তালিকাভুক্ত হলে বিভিন্ন নিয়মের বেড়াজালে আটকে থাকতে হয়। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় লাভ করলে ডিভিডেন্ড দিবে, লোকসান হলে দিবে না। তাই পুঁজিবাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে।

বিশেষ অতিথি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার পঙ্গু হয়ে আছে। দেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে হবে। এজন্য শক্তিশালী রেগুলেটরি কমিশন প্রয়োজন। বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম স্টক এঙচেঞ্জের চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও ইন্টারনাল অডিট সিস্টেম জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করেন। আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদ সাত্তার বলেন, পুঁজিবাজারের মিচ্যুয়াল ফান্ড মার্কেট এখনো শক্তিশালী নয়। আইপিও’র ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা বাধা। এজন্য এনবিআরকে সাথে নিয়ে ট্যাঙ সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাতে পুঁজিবাজারের সাথে সাংঘর্ষিক না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিএসইসিকে কাজ করতে হবে। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্যে চেম্বার সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী পুঁজিবাজারে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে চট্টগ্রাম চেম্বার বিএসইসি’র সাথে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন।

এতে অন্যদের বক্তব্য রাখেন চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, প্রাক্তন সিনিয়র সহসভাপতি এম এ ছালাম, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম স্টক এঙচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসআরএম’র চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুবরেফ’র এমডি মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন ড. সালেহ জহুর, বারভিডা’র মহাসচিব রিয়াজ রহমান প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুধ দিয়ে গোসল করে অনলাইন জুয়া ছাড়ার ঘোষণা যুবকের
পরবর্তী নিবন্ধসীতাকুণ্ডে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু