লিগ চালুর পাশাপাশি নভেম্বরের মধ্যে সিজেকেএস নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে

ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সালাউদ্দিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

সারা দেশের মতো স্থবির হয়ে আছে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনও। নিয়মিত খেলাধুলা আয়োজনের অনুপস্থিতিতে অলস সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন এই সময়ের কিশোর তরুণ খেলোয়াড়রা। মাঠে নামতে না পারায় তাদের যেন নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। এদিকে বেশ ক’দিন হলো চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) বর্তমান অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আরো তিনমাস এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবেন। এই সময়ে তাদের লক্ষ্য একটি নির্বাচন করা। কমিটির এই দ্বিতীয় মেয়াদ বৃদ্ধির দায়িত্বপালনের সময়ে তাদের কাছে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য দ্রুত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার জোরালো দাবি উঠেছে। ক্রীড়াঙ্গন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে লিগটুর্নামেন্ট আয়োজন এবং নির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। এসব দাবিতে সিজেকেএস অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব হাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চট্টগ্রামের ভুক্তভোগী ক্রিকেটার, ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠকরা। গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিজেকেএস কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তারা তুলে ধরেন দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা, হতাশা আর মাঠে ফেরার আকুতি। চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে গত চব্বিশের আগষ্ট থেকে বন্ধ আছে এখানকার ফুটবল, ক্রিকেটের লিগসমূহ। বন্ধ আছে অন্যান্য খেলাধুলার লিগগুলোও। লিগ চালুর দাবির প্রেক্ষিতে মতবিনিময় সভায় সিজেকেএস আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসব লিগ চালু করা হবে। পাশাপাশি আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন সম্পন্ন করে প্রকৃত ক্রীড়া সংগঠকদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়া হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে এক খোলামেলা মতবিনিময় সভায় বসেন তিনি। এসময় সভায় শত শত ক্রিকেটার ও ফুটবলারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সালাউদ্দিন বলেন, আসন্ন সিজেকেএস নির্বাচন কোনো ভয়ভীতি বা দখলের মাধ্যমে হবে না। এখানে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও ফেয়ার নির্বাচন হবে, যেখানে প্রকৃত ক্রীড়াবিদরাই নেতৃত্বে আসবেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন মাস সাত দিন পার হয়েছে। প্রথম তিন মাসের মধ্যে দুই মাস নির্বাচন ও কাউন্সিলর গঠন নিয়ে কাজ অনেক দূর এগিয়েছিল। তবে কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়। পরে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও ফুটবল ক্লাব সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও উপদেষ্টার সহযোগিতায় সেই জটিলতা নিরসন সম্ভব হয়েছে। সিজেকেএস সদস্য সচিব বলেন, বিগত বছরগুলোতে কেন লিগ অনুষ্ঠিত হয়নি, তার জবাব তখনকার কমিটিই ভালো দিতে পারবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ক্রিকেট লিগ চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সমপ্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে একটি চিঠি এসেছে। এ বিষয়ে অ্যাডহক কমিটি ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং লিগ শুরুর বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। বিসিবির ডিরেক্টর ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরুর সঙ্গেও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ শুরু করতে কমপক্ষে ১২টি দল প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানান। খেলা বন্ধ থাকায় অনেক খেলোয়াড় জীবিকার তাগিদে ভিন্ন পেশায় কাজ করছেন শুনে সালাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি হৃদয়বিদারক। যে মাঠ থেকে ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও ফুটবলার মামুনের মতো জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হয়েছেন, সেখানে খেলাধুলা এভাবে বন্ধ রাখা শোভনীয় নয়। নির্বাচনের কাজের পাশাপাশি লিগ চালুর ব্যাপারেও কাজ করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ক্রীড়া উৎসবে এই মাঠে সাতটি ম্যাচ হয়েছে। শুধু ব্যাডমিন্টন বাকি রয়েছে ও স্কুল টুর্নামেন্ট চলছে। তবে প্রিমিয়ার লিগ শুরু না হওয়া পর্যন্ত স্টেডিয়ামের আসল প্রাণ ও দৃশ্যমানতা ফিরে আসবে না। মতবিনিময় সভায় ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ্‌ চৌধুরী এবং সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার বক্তব্য রাখেন। সভায় আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জাতীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের রোডম্যাপ দ্রুত প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। মতবিনিময় সভার আয়োজক ক্রীড়াবিদদের পক্ষ থেকে আম্বিয়া গ্রুপের এমডি ও ক্রিকেটার আবুল হাসেম রাজা অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বলেন, চট্টগ্রামের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা দেখে কান্না আসে। ক্রিকেট ও ফুটবল বাঁচাতে দ্রুত লিগ চালুর পাশাপাশি নির্বাচন দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। প্রয়োজনে লিগ স্পনসর করার দায়িত্ব নেয়া এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। সভায় উপস্থিত খেলোয়াড়েরা দীর্ঘদিন লিগ বন্ধ থাকায় তাঁদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের কেউ জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় যুক্ত হওয়ার কথাও জানান। তাঁরা নির্বাচন কখন হবে, তার চেয়ে নিয়মিত লিগ আয়োজন এবং খেলোয়াড়দের জন্য নির্দিষ্ট খেলার ক্যালেন্ডার বা শিডিউল ঘোষণার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন ক্রিকেটার ও ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ আবু জাফর,সাবেক জাতীয় ফুটবলার মোহাম্মদ শাহেদ ও নাছির উদ্দিন, ক্রিকেটার ইকবাল বাহার, সাংবাদিক তানভির আহমেদ, সিজেকেএস কাউন্সিলর সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, ক্রীড়া সংগঠক নূর জাহেদ বাবলু প্রমুখ। ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, অ্যাডহক কমিটির প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। উল্লেখ্য সিজেকেএসের অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচ্যালেঞ্জার পুলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
পরবর্তী নিবন্ধসিএসইতে লেনদেন ৮৭.২৭ কোটি টাকা