মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর আবেদনে সাড়া দেয়নি হাই কোর্ট

| বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

মহাসড়কে স্লিপার বাস নির্বিঘ্নে চলাচলের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদনে সাড়া দেয়নি হাই কোর্ট। আদালত বলেছে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন এবং ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা মেনে বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া বাসগুলোই কেবল রাস্তায় চলতে পারবে। অনুমোদনহীন বা আইনবহির্ভূত চলা বাসের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই। গতকাল বুধবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদমাওলা সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। খবর বিডিনিউজের।

আদালতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। রিটকারী আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খানও শুনানিতে ছিলেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট মামলা করেন হুজ্জাতুল ইসলাম খান। ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ হাই কোর্টে আরেকটি রিট আবেদন করে। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অন্য কোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের চলমান বাস ডাম্পিং, জব্দ কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিট আবেদনে মালিক সমিতি বলেছে, ৮৯টি পরিবহন কোম্পানির অধীনে প্রায় এক হাজার স্লিপার এসি বাস পরিচালিত হচ্ছে। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ মানুষের জীবিকা জড়িত। আবেদনে আরো বলা হয়, বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন বা বিধিমালায় স্লিপার বাসের কাঠামো ও নকশা নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা প্রযুক্তিগত মানদণ্ড নেই। বাসগুলোর অনুমোদনের লক্ষ্যে বিআরটিএ একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে এবং বুয়েটের মাধ্যমে বাসগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও এআইএস১১৯ মানদণ্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এই নীতি ও কারিগরি মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট থাকা বাসগুলোর চলাচল নিশ্চিত করতে বিআরটিএর গত ১১ অগাস্ট জারি করা একটি আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়। তবে শুনানি শেষে ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি হাই কোর্ট।

বিআরটিএর আইনজীবী রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘সিঙ্গেল ডেকার হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে কিছু বাসকে স্লিপার বাসে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮এর ৪০ ধারা এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান লঙ্ঘন হয়েছে। স্লিপার বাসের কোনো নিবন্ধনই বিআরটিএ দেয়নি। ফলে আদালত স্লিপার বাস চলাচলের বিষয়ে কোনো অনুমতিও দেননি।’ তিনি বলেন, ‘স্লিপার বাস সম্পর্কে যেহেতু বিআরটিএ কোনো রেজিস্ট্রেশনও প্রদান করেনি, সেহেতু এগুলো চলাচলের সম্পর্কে কোনো আদেশ বিজ্ঞ আদালত প্রদান করেননি।’

রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮এর ২৮ ধারায় রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারে না। আর রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি চললে ওই আইনের ৮৪ ধারায় শাস্তি ও তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।’

অবৈধ স্লিপার বাস বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্কশপে অভিযান চালিয়ে কিছু বাস ডাম্পিং ও জব্দ করা হয়েছে এবং কয়েকটি বাসকে জরিমানা করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে মানুষের জীবন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে
পরবর্তী নিবন্ধনগরের নেপথ্যের সবুজ জীবন-সংকট, দখল ও সংরক্ষণের নতুন দর্শন