বাঁধনকে হেনস্তায় ইতালির কাছে কঠোর ব্যবস্থা চেয়েছে বাংলাদেশ

সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

| বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইতালি সরকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থা চেয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জাতীয় সংসদের বৈঠকে গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি প্রথম তোলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনও বিষয়টি তুলে ধরে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন। তাদের বক্তব্যের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ জানান। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল সংসদের বৈঠকের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কথা বলেন জহরত আদিব চৌধুরী। তিনি বলেন, বিষয়টি হয়ত পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে পড়ে না; তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সারা দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই স্পিকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে বিষয়টি সংসদে তুলছেন। জহরত বলেন, জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই বাঁধনকে লক্ষ্য করে এই ঘটনা ঘটেছে। একজন গুণী অভিনেত্রী, একজন নারী হিসেবে উনার ওপর যেরকম চরমভাবে ফ্যাসিস্ট সরকারের একদম আইডেন্টিফাইড লোকজনউনারা মনে করেছে পৃথিবীর যে কোনো জায়গাতে দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারবেন। একজন মহিলার উপরে এভাবে আক্রমণ করতে পারেন, শুধুমাত্র সে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিল বলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে এরই মধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরপর সরকারের কাছে পদক্ষেপ জানতে চান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো মন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসদে এলে তার বক্তব্য নেওয়া হবে।

বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ বর্ণনা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, নির্মমতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এই সংসদ জানতে চায়, এই জাতি জানতে চায়। প্রশ্নোত্তর পর্ব চলার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসদে এলে ডেপুটি স্পিকার আবার বিষয়টি তার নজরে আনেন। ডেপুটি স্পিকার প্রতিমন্ত্রীকে বিষয়টি সম্পর্কে প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে সংসদে বক্তব্য দিতে বলেন।

সংসদে নিজের প্রথম বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সরকারি ও বিরোধী দলের যেসব সদস্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরও অভিনন্দন জানান তিনি। ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার উপর হামলা মানেই এই দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার উপর হামলা। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালেই পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। বাঁধনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তথ্য দেন প্রতিমন্ত্রী।

মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও তিনি জানান। হুমায়ুন কবির বলেন, বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বাঁধন স্থানীয় পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন। বাংলাদেশের দূতাবাসও ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি সবচেয়ে কঠোরভাবে তুলবে। বাংলাদেশে অপরাধ করে যারা বিদেশে পালিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে বলেও সংসদকে জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আবার কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি জানতে চান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সংসদকে অবহিত করতে বলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে সড়ক অবরোধ, তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল গাড়ি চলাচল
পরবর্তী নিবন্ধসারা দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু