শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুন্দর সুষ্ঠু পরিবেশে পরিচালনার লক্ষ্যে এলাকার শিক্ষিত সচেতন সামাজিক ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তিকে নেতৃত্বে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে শিক্ষার মান প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ ও উন্নয়নমূলক নেতৃত্বের জন্য শিক্ষা ও শিক্ষিতের বিকল্প নেই। নেতৃত্বের শ্রেণিভাগ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব দেয়ার স্থান নয় এখানে নেতার দাম্ভিকতা অহংকার শক্তি প্রর্দশন প্রভাব বিস্তার আহম্মিকতা দাপট কর্তৃত্ব দেখানোর সুযোগ নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দেয়া মানে নিজেকে বড় মাপের নেতা ভাবাটা এক শ্রেণির মানুষের অসুস্থ মানসিকতা কাজ করে যার ফলে যোগ্যহীনরা এখানে গেড়ে বসে। শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটির জবাবদিহিতা না থাকায় যে কেউ এখানে নেতৃত্বের খায়েশ মিটাতে উঠে পড়ে লাগে শিক্ষার মান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কমিটির দায় দায়িত্ব ও কর্মপরিকল্পনার একটি রূপরেখা থাকতে হবে যা কমিটি কর্তৃক বাস্তবায়ন করা বাধ্যতামূলক এমন শর্ত থাকলে সদস্য হওয়ার জন্য সারা গ্রাম খুঁজে একজনও পাওয়া যাবে না। আমরা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংস্কৃতি আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব একই মানদণ্ডে নিয়ে এসেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ক্ষমতাসীন সরকারের গৃহীত নীতিমালার আলোকে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্র নয়, এখানে শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি ভাবে আর্থিক লজিস্টিক সহযোগিতা করা, শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা, উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষায় উৎসাহিত করা, সরকারি বরাদ্দের সঠিক সদ্ব্যবহার, অপচয় দুর্নীতি রোধ করা উন্নয়ন কাজের তদারকি করা স্থানীয় উৎস থেকে শিক্ষাপোকরণের ব্যবস্থা করা এলাকাবাসীকে শিক্ষা সংস্কৃতি খেলাধূলা পাঠাগার স্থাপন গরীব অসহায় সুবিধা বঞ্চিতদের শিক্ষা অর্জনে সহায়তা প্রদানই দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মূল কাজ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মানে শিক্ষকদের উপর খবরদারি চোখরাঙানি আসা–যাওয়ার সময়ের তারতম্য মনিটরিং করা এবং এলাকায় নিজেকে বিরাট সম্মানের পাত্র হিসাবে ধরাকে সরা জ্ঞান করা নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ সমাজে এধরনের পদের জন্য সর্বদা লালায়িত থাকে। এসব ব্যক্তি নিজ দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন তাদের লক্ষ্য শুধু একটিই সভাপতির চেয়ার দখল করা। শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা সমাজের কল্যাণ সাধন তো হয় না বরং ক্ষেত্র বিশেষে তাদের দ্বারা প্রভূত ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষিত হলে তিনি যে নেতৃত্বের যোগ্যতা রাখে তা মনে করার কোন অবকাশ নেই সমাজে এমন কিছু মানুষ রয়েছে স্বল্প অর্ধ বা স্বশিক্ষিত তারা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং সামাজিক শান্তি শৃঙ্খলা শিক্ষা সংস্কৃতি ভারসাম্য রক্ষায় তারা শিক্ষিতদের চেয়ে এগিয়ে এখনো দেশব্যাপী সমীক্ষা চালালে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান তাদেরই বেশি যাদেরকে শিক্ষিত বলা হয় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের কার্যাবলি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত সভাপতি রয়েছে তার চেয়ে কম শিক্ষিত সভাপতির প্রতিষ্ঠান অনেক এগিয়ে, এর কারণ শিক্ষা নয় ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তির সাংগঠনিক দক্ষতা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ গঠন নীতিমালা ঘন ঘন পরিবর্তন করার ফলে উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয় না। রাজনৈতিক বিবেচনায় যোগ্য ব্যক্তির জায়গায় অযোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ায় স্থবিরতা সৃষ্টি হয় পরিচালনা পর্ষদ গঠনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
ইদানীং এলাকার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক বা সরকারি চাকরিজীবী থেকে সভাপতি নিয়োগ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে এতেও সুফল মিলবে আশা করা যায় না। অধিকাংশ শিক্ষক ও চাকরীজীবী শান্ত নিরীহ সহজ সরল প্রকৃতির নেতৃত্বে অনেক কঠিন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় যা কোমল প্রকৃতির শিক্ষক ও চাকরিজীবীর পক্ষে অসম্ভব আমাদের শিক্ষক সমাজ ও সরকারি চাকরিজীবীরা একমুখী প্রতিভাধারী তাই অনেক জটিল ও কঠিন সমস্যায় নিজের আত্মসম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। শিক্ষা সংস্কৃতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সামাজিক প্রতিষ্ঠান এসব নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র লেগে থাকে যার প্রতিকূল পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ ধীসম্পন্ন বুদ্ধিমত্তা ও প্রভাব বিস্তার ছাড়া উত্তরণ কঠিন। পুঁথিগত শিক্ষা ছাড়া ও উপকরণ ভিত্তিক হাতে কলমে শিক্ষার্থীদের মেধা মননশীল চিন্তার জগৎ বিকশিত করার মেথড সম্পন্ন গুণাবলি শিক্ষিতের চেয়ে কম শিক্ষিতের অনেক বেশি এটা পরিক্ষিত। শিক্ষা চিকিৎসা উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি কখনো সমাজের জন্য ইতিবাচক নয় উপযুক্ত স্থানে যোগ্য দক্ষ অভিজ্ঞ সামাজিক ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করলে শুধু শিক্ষা নয় সমাজের সার্বিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয় এ উপলব্ধিবোধ রাজনৈতিক সংর্কিণতা দৃষ্টিভঙি পরিবর্তনই যথেষ্ট।
লেখক: প্রাবন্ধিক।










