নেপালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর ১০ দিন পেরোনোর পরও এল অলৌকিক উদ্ধারের খবর। ৬৪ বছরের এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার নুওয়াকোট জেলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। তার নাম চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ। তিনি যে চারতলা বাড়িতে ছিলেন তার নীচের তিনটি তলাই গত ২৬ অগাস্টের হড়পা বানের পর মাটির নীচে চলে গিয়েছিল। কাদামাটির স্তূপে চাপা পড়েছিল চতুর্থ তলার একাংশও। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকেই হঠাৎ ভেসে এসেছিল ক্ষীণ শব্দ। এতে চমকে ওঠেন নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যেরা। এলাকাটিতে মাটি সরিয়ে রাস্তা তৈরির কাজ করতে গিয়েছিলেন তারা। বিপর্যয়ের ১০ দিন পরও কাউকে জীবিত উদ্ধার করা যাবে ভাবেননি। ৬৪ বছরের চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠা উদ্ধার পাওয়া তাই তাদের কাছে অলৌকিক বিষয়। বন্যায় কাদামাটির স্তূপের নীচে চলে যাওয়া তার বাড়িটির উপরে ছিল কেবল চতুর্থ তলার একাংশ। খবর বিডিনিউজের।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, সেখানেও কিছু দিন আগে তল্লাশি চালানো হলেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এলাকায় আর কেউ বেঁচে নেই ভেবে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছিল। শনিবার বাড়িটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা খুব ক্ষীণ শব্দ আসার পর কাদা সরানো শুরু হয়।
চারতলার একটি জানলা ভেঙে হামাগুড়ি দিয়ে কোনও রকমে উদ্ধারকারীরা ভেতরে ঢোকার পর বৃদ্ধার গলার স্বর আরও স্পষ্ট হয়। ১০ দিন ধরে কী ভাবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তিনি আটকে থাকলেন তা স্পষ্ট নয়।
তাকে নেপালি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই বৃদ্ধার পরিবারের কয়েকজন বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ। এমনকি বৃদ্ধারও শেষকৃত্যের আয়োজন করে ফেলেছিলেন পরিবারের জীবিত সদস্যরা।
কিন্তু শনিবার সকালে তাকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজনরা বিশ্বাস করে উঠতে পারছিলেন না। বৃদ্ধার এক আত্মীয় বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে নিশ্চিত হয়েছি, নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছিল না।’’
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, হড়পা বানের কারণে এলাকার তিনতলা বাড়িগুলো সম্পূর্ণ চাপা পড়েছে কাদামাটির নীচে। চতুর্থ তলার অর্ধেকও ডুবে আছে। কিছু বাড়ি স্রোতে ভেসে গেছে। এ পর্যন্ত নেপালে উদ্ধার হয়েছে ১,৩৪৪ মৃতদেহ। এখনও পাঁচ হাজার ৫শ’ মানুষ নিখোঁজ।












